Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ধ্বংসস্তূপ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার, মোদির উত্থানের নেপথ্যে যে ভূমিকম্প

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ এএম

ধ্বংসস্তূপ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার, মোদির উত্থানের নেপথ্যে যে ভূমিকম্প

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

২০০১ সালের ভুজ ভূমিকম্প শুধু গুজরাটের পুনর্গঠনকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেনি, বদলে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতির সমীকরণও। দীর্ঘদিন বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলার কাজে যুক্ত নরেন্দ্র মোদির সামনে খুলে যায় সরকার পরিচালনার নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বড় প্রশাসনিক পরীক্ষা ছিল সেই বিপর্যয় মোকাবিলা ও পুনর্গঠন।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদি। এর আগে কখনো কোনো সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকলেও প্রশাসন পরিচালনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিল না তার।

কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তার সামনে অপেক্ষা করছিল বড় এক পরীক্ষা। ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্পে গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চল, বিশেষ করে ভুজ, ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল। হাজারো মানুষের প্রাণহানি, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জনপদ এবং বিপর্যস্ত অবকাঠামো—সব মিলিয়ে রাজ্যটির সামনে তখন পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জ।

এর ২৫ বছর পর, ২০২৬ সালে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা এক চতুর্থাংশ শতাব্দী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালনের মাইলফলকে পৌঁছে মোদি নিজেই ভুজ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। 

৭ অক্টোবর নিজের ২৫ বছরের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভুজের ভূমিকম্প আমাকে পুনর্গঠনের কাজে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছে।’


তবে মোদির রাজনৈতিক জীবনে ভুজের গুরুত্ব শুধু দুর্যোগ মোকাবিলার অভিজ্ঞতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঘটনাটি ঘটেছিল গুজরাটের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। একদিকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে তৎকালীন রাজ্য সরকারের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন এবং একের পর এক নির্বাচনী ধাক্কা—সব মিলিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই উত্তর ভারতে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা মোদিকে আবার গুজরাটে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে তিনি দায়িত্ব নেন গান্ধীনগরের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে।

মুখ্যমন্ত্রী বদলের রাজনীতিতে অভ্যস্ত ছিল গুজরাট

মোদি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে কয়েক বছর ধরেই গুজরাটের রাজনীতি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। রাজ্যে বিজেপির প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৯৫ সালের মার্চে, কেশুভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে। কিন্তু তার প্রথম মেয়াদ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

ওই বছরের অক্টোবরেই বিজেপির আরেক প্রভাবশালী নেতা শঙ্করসিংহ ওয়াঘেলার নেতৃত্বে দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে পদত্যাগ করতে হয় কেশুভাইকে।

এরপর ১৯৯৫ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সুরেশ মেহতা।

রাজ্যে অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পর ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে মুখ্যমন্ত্রী হন ওয়াঘেলা। পরে তিনি বিজেপি ছেড়ে রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি (আরজেপি) গঠন করেন। তার উত্তরসূরি দিলীপ পারিখ ১৯৯৭ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সরকার পরিচালনা করেন।

১৯৯৮ সালের মার্চে আবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ফেরেন কেশুভাই প্যাটেল। ২০০১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন।


অর্থাৎ, মোদি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগের প্রায় সাড়ে ছয় বছরে গুজরাটে একই রাজনৈতিক দলের শাসনামলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে চারজন ভিন্ন ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিজেপির রাজ্য রাজনীতির শুরুর দিকের এই পালাবদল দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বেরই প্রতিফলন ছিল।

এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদির আবির্ভাব ঘটে। তখন পর্যন্ত তার পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি ছিল দলীয় সংগঠক হিসেবে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা, সরকারপ্রধান হিসেবে নয়।

দল গড়ার কারিগর থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী

২০০১ সালে গুজরাটের নেতৃত্বে আসার আগেই বিজেপির সংগঠক হিসেবে পরিচিতি তৈরি করেছিলেন মোদি। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার পর ১৯৮৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। পরে দলের গুজরাট শাখার সাধারণ সম্পাদক হন।

রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত করা এবং দলের নির্বাচনী উত্থানে তার ভূমিকার কথা বলা হয়। বিশেষ করে ১৯৯৫ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পেছনে তার সাংগঠনিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করা হয়।

১৯৯৫ সালে তাকে রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতিতে নিয়ে আসা হয়। বিজেপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশে দলের কাজ দেখভালের দায়িত্ব পান তিনি।

তবে এই দায়িত্ব পরিবর্তনের পেছনে শুধু সাংগঠনিক সম্প্রসারণই ছিল না। গুজরাটে মোদির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। তাদের মধ্যে শঙ্করসিংহ ওয়াঘেলা অন্যতম। রাজ্যের রাজনীতিতে মোদির অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছিল। এসব টানাপোড়েনের মধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে গুজরাটের বাইরে বৃহত্তর জাতীয় দায়িত্ব দেয়।

১৯৯৮ সালে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হন মোদি। এই পদ তাকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে।


অর্থাৎ, ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারি যখন গুজরাটে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে, তখন মোদি বিজেপির একজন জ্যেষ্ঠ জাতীয় পর্যায়ের সংগঠক। কিন্তু রাজ্যের বিপর্যয় তাকে আবার গুজরাটের মাটিতে ফিরিয়ে আনে।

ভূমিকম্পের পর দ্বিতীয় দিনেই ভুজে মোদি

মোদি পরবর্তী সময়ে একাধিকবার স্মরণ করেছেন, ভূমিকম্পের দ্বিতীয় দিনেই তিনি কচ্ছে পৌঁছেছিলেন। প্রায় ছয় বছর পর সেটিই ছিল তার নিজ রাজ্যে ফেরা।

২০২২ সালে ভুজে ‘স্মৃতিবন’ ভূমিকম্প স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের সময় সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মোদি বলেন, ‘আমার মনে আছে, ভূমিকম্প হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেই আমি এখানে পৌঁছেছিলাম। তখন আমি মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম না, ছিলাম একজন সাধারণ দলীয় কর্মী। কতজনকে এবং কীভাবে সাহায্য করতে পারব, তা জানতাম না। কিন্তু মানুষের দুঃখের সময়ে তাদের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মানুষের সেবা করার সেই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।’

তৎকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোদি ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো আকাশপথে পরিদর্শনের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই প্যাটেলের সঙ্গেও ছিলেন তিনি।

তবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পরিচালিত হয়নি। রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্মিলিতভাবে বিপর্যয় মোকাবিলায় কাজ করে।

ভূমিকম্পের পরপরই, ২০০১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, গুজরাট রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (জিএসডিএমএ) প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, জীবিকা পুনরুদ্ধার, বাড়িঘর নির্মাণ এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য একটি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়া হয়। 

কিন্তু বিপর্যয় মোকাবিলার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যেই কেশুভাই প্যাটেলের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের গতি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে সমালোচনা ক্রমেই রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।

ভুজের বিপর্যয় যেভাবে রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিল

২০০১ সালের ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। কচ্ছের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধারকাজের বিলম্ব এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড়ে সমস্যার অভিযোগ ওঠে।

২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডে সাময়িকীর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভূমিকম্পের পর গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সময়টিতে ক্রেন ও মাটি সরানোর যন্ত্রপাতি কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সরকারকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।

ফলে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা শুধু মানবিক সংকট তৈরি করেনি, কেশুভাই সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন বাড়িয়ে দেয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিজেপির একের পর এক নির্বাচনী ধাক্কা। ২০০১ সাল নাগাদ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যের প্রশাসন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। ওই বছরের আগস্টে সাবরমতী বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনেও বিজেপি পরাজিত হয়।

রাজনৈতিক অসন্তোষ, সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা, নির্বাচনী ব্যর্থতা এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে কেশুভাই প্যাটেলের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।


শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গুজরাটে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। দলের সাংগঠনিক কাজে অভিজ্ঞ মোদিকেই নতুন মুখ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এভাবেই যে ব্যক্তি এত দিন একটি রাজনৈতিক দলকে সংগঠিত করার কাজ করেছেন, তাকেই দায়িত্ব নিতে হয় এমন একটি রাজ্যের, যার সামনে তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটির পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন করে জনজীবন গড়ে তোলা।

ত্রাণ থেকে পুনর্গঠন: মোদির প্রথম বড় প্রশাসনিক পরীক্ষা

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদির সামনে ভুজ হয়ে ওঠে তার রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় প্রশাসনিক কর্মক্ষেত্র।

তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। নতুন সরকার সেই কর্মসূচি পর্যালোচনা করে কাজের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের একটি গবেষণায় কচ্ছের ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০১ সালের অক্টোবরে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মোদি পুনর্গঠন কর্মসূচি পর্যালোচনা করেন এবং মনে করেন, কাজকে আরও এগিয়ে নিতে বাড়তি উদ্যোগ প্রয়োজন।

গুজরাটের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন নীতিতে শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও সরকারি ভবন মেরামত বা পুনর্নির্মাণ, স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মানুষের জীবিকা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

তবে ভূমিকম্পের পর মোদির ভূমিকা থেকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না যে, ভুজ পুনর্গঠনই তাকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছিল। বাস্তবতা ছিল আরও জটিল।

ভূমিকম্পের আগেই তিনি বিজেপির একজন প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্বাচনী প্রচারে তার অভিজ্ঞতা ছিল। গুজরাটে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিবেচনায় এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

অন্যদিকে, কেশুভাই সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংকট এবং ২০০২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের অবস্থান পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনও নেতৃত্ব পরিবর্তনের অন্যতম প্রেক্ষাপট ছিল।

অর্থাৎ, ভূমিকম্প এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি ছিল মোদির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, একমাত্র কারণ নয়।

২৫ বছর পরও কেন ফিরে আসে ভুজের স্মৃতি?

মোদি ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে মূলত বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলা, দলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নির্বাচনী প্রচার পরিচালনার কাজে যুক্ত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাকে প্রথমবারের মতো সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তার বাস্তব ফলাফলের দায়িত্ব বহন করতে হয়।


ভুজ ছিল সেই পরিবর্তনের প্রথম বড় ক্ষেত্র। সেখানে শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, ধ্বংস হয়ে যাওয়া জনপদ পুনর্গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কঠিন কাজ সামনে ছিল।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তার সরকারপ্রধানের দায়িত্বের যাত্রা ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তিনি সরকারপ্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করেন।

এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাটানো ১৩ বছর এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়—দুই পর্বই তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ। তবে ভুজের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা তার কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এসেছে।

২৫ বছর পর সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মোদি যে পুনর্গঠনের কাজে অবিচল থাকার শিক্ষার কথা বলেছেন, তা তার নিজের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সামনে আনে।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ভারতে মেট্রোরেলে বসাকে কেন্দ্র করে নিহত ১, ছেলেসহ সাবেক আমলা গ্রেফতার

ভারতে মেট্রোরেলে বসাকে কেন্দ্র করে নিহত ১, ছেলেসহ সাবেক আমলা গ্রেফতার

গাড়ি চাপায় তিন শিক্ষার্থীকে হত্যা করে যুবক বললেন, ‘বাবা সামলে নেবে’

গাড়ি চাপায় তিন শিক্ষার্থীকে হত্যা করে যুবক বললেন, ‘বাবা সামলে নেবে’

ওমান উপকূলে ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ

ওমান উপকূলে ট্যাংকারে ড্রোন হামলা, দুই ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ

মাঝআকাশে যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক থেকে বিমানে আগুন!

মাঝআকাশে যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক থেকে বিমানে আগুন!

মণিপুরে ফের সহিংসতায় নিহত ৯, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

মণিপুরে ফের সহিংসতায় নিহত ৯, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

‘যুক্তরাষ্ট্র তো কাছেই ঘেঁষতে দেয় না’, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে আক্ষেপ ভারতের

‘যুক্তরাষ্ট্র তো কাছেই ঘেঁষতে দেয় না’, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে আক্ষেপ ভারতের

আরও পড়ুন

ধ্বংসস্তূপ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার, মোদির উত্থানের নেপথ্যে যে ভূমিকম্প

ধ্বংসস্তূপ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার, মোদির উত্থানের নেপথ্যে যে ভূমিকম্প

ভারতে মেট্রোরেলে বসাকে কেন্দ্র করে নিহত ১, ছেলেসহ সাবেক আমলা গ্রেফতার

ভারতে মেট্রোরেলে বসাকে কেন্দ্র করে নিহত ১, ছেলেসহ সাবেক আমলা গ্রেফতার

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

ইসরাইলের দিকে ঝুঁকতে যাচ্ছে সৌদি?

ইসরাইলের দিকে ঝুঁকতে যাচ্ছে সৌদি?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম