২৫ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার, কে এই কাব্য
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যবসায়ী কালানিধি মারানের মেয়ে কাব্য মারান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। ‘কোলাভেরি ডি’ গান দিয়ে রাতারাতি পরিচিতি পাওয়া এই সংগীতশিল্পী এখন কাজ করছেন একের পর এক বড় বাজেটের সিনেমায়। ‘জেলার ২’সহ কয়েকটি ছবি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এবার তার ব্যক্তিগত জীবনও সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে। সান গ্রুপের চেয়ারম্যান কালানিধি মারানের মেয়ে কাব্য মারানের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন অনিরুদ্ধ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আগামী নভেম্বরে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে।
বিয়ের খবরটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্ত রেড্ডির একটি প্রকাশ্য পোস্টের পর। ১৭ অক্টোবর কালানিধি মারান ও তার স্ত্রী কাবেরী মারানের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাদের মেয়ের বিয়ের সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাওয়ার কথাও জানান তিনি। চেন্নাইয়ে ২১ নভেম্বর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে। মূল বিয়ের অনুষ্ঠান ১১ নভেম্বর গ্রিসে হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিয়ের অনুষ্ঠান ও তারিখ নিয়ে বিস্তারিত তথ্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
কে এই কাব্য মারান
কাব্য মারান ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যবসায়ী কালানিধি মারানের মেয়ে। তার বাবা সান টিভি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। টেলিভিশন সম্প্রচার, বিনোদন, সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যবসায় বিস্তৃত এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। কাব্যর মা কাবেরী মারানও সান টিভি নেটওয়ার্কের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।
ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাব্য চেন্নাইয়ের স্টেলা মারিস কলেজে পড়াশোনা করেছেন। পরে যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিজনেস স্কুল থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (এমবিএ) অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ক্রিকেটের মাঠে ও খেলোয়াড় নিলামে কাব্যর উপস্থিতি নিয়মিতই আলোচনায় আসে। দল পরিচালনা, খেলোয়াড় নির্বাচন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ। ফলে তার পরিচয় শুধু ধনকুবেরের মেয়ে হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, ব্যবসা পরিচালনায়ও রয়েছে তার ভূমিকা।
২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ
ভারতের হুরুন রিচ লিস্ট ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী কালানিধি মারানের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ফোর্বসের হিসাবে, তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
কালানিধি মারানের সম্পদের বড় উৎস সান টিভি নেটওয়ার্ক। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ ভারতের অন্যতম বড় গণমাধ্যম গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলের পাশাপাশি রেডিও, সংবাদপত্র, সরাসরি সম্প্রচার সেবা এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, সান টিভির চ্যানেলগুলো ভারতের ১৪ কোটির বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ক্রিকেটও। সান টিভি নেটওয়ার্কের মালিকানাধীন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আইপিএলের পরিচিত দলগুলোর একটি। ২০১২ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা নেওয়ার পর ২০১৩ সালে আইপিএলে যাত্রা শুরু করে দলটি। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও সম্প্রচার ব্যবসার সংযোগ মারান পরিবারের ব্যবসায়িক পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
তবে ২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদটি কালানিধি মারানের আনুমানিক ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পুরো অর্থকে কাব্যর নিজস্ব সম্পদ বা তার হাতে থাকা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থ হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। কাব্যর ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অনুমানভিত্তিক হিসাব প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলোকে নিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য হিসেবে ধরা যায় না।
ক্রিকেটের গ্যালারি থেকে আলোচনার কেন্দ্রে
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের খেলা চলাকালে গ্যালারিতে কাব্যর উপস্থিতি প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। দলের প্রতি তার আগ্রহ, খেলোয়াড় নিলামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা তাকে ক্রিকেটের জগতেও পরিচিত করেছে। ক্রিকেটের মাঠে তার উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের পাশাপাশি তার পোশাক ও অভিব্যক্তিও মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়।
আইপিএলের দল পরিচালনা করা নিছক পারিবারিক পরিচয়ের বিষয় নয়; এর সঙ্গে খেলোয়াড় নির্বাচন, দল গঠন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার মতো নানা দায়িত্ব জড়িত। কাব্যর ক্ষেত্রে তাই ব্যবসায়ী পরিবারের উত্তরসূরি পরিচয়ের পাশাপাশি একজন ক্রীড়া ব্যবস্থাপক হিসেবেও পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
‘কোলাভেরি ডি’ থেকে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক
অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের উত্থানের গল্পটিও কম আকর্ষণীয় নয়। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘থ্রি’-এর ‘হোয়াই দিস কোলাভেরি ডি’ গান তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। ধানুশের গাওয়া গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। তখন থেকেই চলচ্চিত্রের সংগীতে নতুন প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন অনিরুদ্ধ।
এরপর ‘কাইথি’, ‘বেদালাম’, ‘মাস্টার’, ‘বিক্রম’, ‘জেলার’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো সিনেমায় সংগীত পরিচালনা করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। তামিল সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে তেলেগু ও হিন্দি চলচ্চিত্রেও তার কাজের পরিধি বেড়েছে। বড় তারকাদের সিনেমায় তার সংগীত পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান জনপ্রিয় হওয়ার কারণে নির্মাতাদের কাছেও তিনি চাহিদাসম্পন্ন সংগীত পরিচালক।


