শিশু নির্যাতনের অভিযোগে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন মেগান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিশু নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়ে বাবাকে লেখা চিঠিতে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেল। ২০২৫ সালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা থমাস মার্কেলকে ওই চিঠি পাঠান তিনি। চিঠিতে মেগান জানান, তার বাবা আর কখনো নাতি-নাতনি আর্চি ও লিলিবেটের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। একই সঙ্গে বাবার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখবেন না বলেও জানান তিনি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনে পা কেটে ফেলার অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে থাকা বাবাকে ওই চিঠি পাঠিয়েছিলেন মেগান। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, তার বাবার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত ছিলেন।
থমাস মার্কেলের ফিলিপাইনের সাবেক বাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফিলিপাইনের মানবপাচারবিরোধী ও শিশুদের যৌন শোষণ প্রতিরোধবিষয়ক টাস্কফোর্স তদন্ত করছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনভিক রেমুলা জানিয়েছেন, ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশ থমাসের কম্পিউটার জব্দ করেছে।
তবে থমাস মার্কেল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মেইল অন সানডেকে তিনি বলেন, ফিলিপাইনে তিনি অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক কিংবা শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি রাখার অভিযোগ সত্য নয়।
যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৯ সালে থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগসংবলিত একটি চিঠি তারা পেয়েছিল। বিষয়টি কীভাবে সামলানো হয়েছিল, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চিঠিটি ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্সের সঙ্গে শেয়ার করা হলেও অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়নি।
এক বিবৃতিতে মেগান বলেন, বিষয়টি তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। যেসব শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে, তাদের কথা তিনি ভাবছেন। বাবার সঙ্গে কেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ সীমিত রেখেছেন এবং কেন সন্তানদের সঙ্গে তার বাবার যোগাযোগের সুযোগ দেননি, তা মানুষ বুঝতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একাধিকবার স্ট্রোকের শিকার হওয়ার পর গত বছর থমাস মার্কেল ফিলিপাইনে চলে যান। পা কেটে ফেলার অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি আবার হাঁটতে শেখার চেষ্টা করছেন।
মেগানের সৎভাই থমাস মার্কেল জুনিয়রের অভিযোগ, বাবার সাবেক বাসায় তিনি শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও খুঁজে পেয়েছিলেন। এরপর গত জুলাইয়ে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে জানান। এফবিআইও অভিযোগগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে।

-6add851a18f23.jpg)