মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা, ইরান নিয়ে কী ভাবছেন ট্রাম্প?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রোববারই (২৫ অক্টোবর) হামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। খবর এনডিটিভির।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব?’
সাংবাদিক আবারও প্রশ্ন করলে ট্রাম্প সেটিকে ‘বোকামিপূর্ণ প্রশ্ন’ বলে মন্তব্য করেন। তবে ইরানে হামলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আগামীকাল। হামলা চালানোর সম্ভাবনা আছে। আবার একটি চমৎকার, বড় ও সুন্দর চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা চুক্তিটি মেনে চলবে কি না।’
ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছিল বলে আবারও দাবি করেন ট্রাম্প।
‘আবারও ছোট পরিসরে এপিক ফিউরি চালাতে পারি’
এর আগে শুক্রবারও ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা হয়তো আবারও ছোট পরিসরে এপিক ফিউরি চালাতে পারি।’ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নাম ‘এপিক ফিউরি’।
এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও চলতি সপ্তাহান্তে ইরানে হামলার সম্ভাবনার কথা বলেন।
এক পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে কি? অবশ্যই।’
যেভাবে শুরু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।
এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় তেহরান। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
যুদ্ধ বন্ধে গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফার একটি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে সম্মত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে ৮ জুলাই ট্রাম্প ওই চুক্তিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে ইরান।
এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না।
এদিকে ইরানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মঙ্গলবার দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত বছর থেকে ইরানে দুটি বড় ধরনের বোমা হামলা চালানোর পর দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

-6adddaab44193.jpg)