যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন প্রস্তাব কাতারের, যা আছে এতে
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে কাতার। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে তেহরান ও মধ্যস্থতাকারীদের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার ইরানের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে এবং সপ্তাহের শেষ নাগাদ তেহরানের জবাব পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, কাতার কেবল কিছু ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ দিয়েছে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের খসড়ায় দুই পক্ষের উদ্বেগ মোকাবিলায় সাত দিনের একটি সময়সীমা রাখা হয়েছে। প্রতিদিনের জন্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এই প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। চুক্তি বাস্তবায়নে কয়েকটি দেশ গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় ইরান। যুক্তরাষ্ট্র চায়, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর পর্যায় থেকেই ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো শর্ত আগে পূরণ করতে হবে। ইরান বরাবরই তাদের পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়ার পশ্চিমা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এদিকে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবার হামলার হুমকি দেন। একই সময়ে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল লক্ষ্য করে আক্রমণের বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে তেহরান।
সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে মঙ্গলবার কাতার বলেছে, মধ্যস্থতার উদ্যোগ সফল করতে ইরানকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি হুমকি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।
এই সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে। যুদ্ধের আগের পর্যায়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছিল। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াইও নতুন করে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধটি ট্রাম্পের জনসমর্থনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
