সাত বছরে ইসরাইলে কেন ছয় নির্বাচন?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে দেশটির নাগরিকদের ছয়বার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হয়েছে। এর মূল কারণ হলো, বিগত বছরগুলোতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শিবির কিংবা তার বিরোধীপক্ষ—কোনো পক্ষই কখনো সরকার গঠনের মতো একটি স্থিতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।
ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে ৬১টি আসনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশটির ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলই কখনোই একা এই সংখ্যা অর্জন করতে পারেনি। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জোট গঠন করতে হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর জোট গঠন করা সম্ভব না হলে দেশটিকে আবারও আগাম নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়।
এই রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয় ২০১৯ সালে। সে বছর অবিগডোর লাইবারম্যান অতি-অর্থোডক্স ইহুদি পুরুষদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির বিল অপরিবর্তিতভাবে পাস না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় দেশটিতে, যা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত বা ড্রতে পর্যবসিত হয়।
এরপর ২০২০ সালে তৃতীয় দফার নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও বেনি গান্তজ একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করলেও তা বেশি দিন টিকতে পারেনি। যথাসময়ে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই বছরের ডিসেম্বরেই সরকারটি ভেঙে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার ল্যাপিডের নেতৃত্বে আটটি ভিন্ন রাজনৈতিক দল মিলে একটি জোট গঠন করে। নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানোই ছিল এই জোটের প্রধান ঐক্যের ভিত্তি, যার মাধ্যমে তারা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম হয়। তবে অভ্যন্তরীণ দলছুট ও পদত্যাগের কারণে এই জোট তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেললে মাত্র এক বছর পরই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়।
এরপর ২০২২ সালের নির্বাচনে আবারও ঘুরে দাঁড়ান এবং জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফেরেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, এবং তিনি তার এই মেয়াদে পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র: আল-জাজিরা

