মন্ত্রী-আমলাদের নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের এবার সামরিক প্রশিক্ষণের মাঠে নামিয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। মন্ত্রিসভার সদস্য, উপমন্ত্রী ও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন তিনি নিজেও। তার মতে, সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও কর্মপদ্ধতি বেসামরিক নেতৃত্বকে আরও দক্ষ করে তুলতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির হুরসো সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে প্রধানমন্ত্রীকে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামরিক অনুশীলনে অংশ নিতে দেখা গেছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন হাউস অব ফেডারেশনের স্পিকার মুফেরিয়াত কামিল, অর্থমন্ত্রী ফিতসুম আসেফা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেকদেস দাবা।
তবে প্রশিক্ষণটি কবে শুরু হয়েছে এবং কত দিন চলবে, তা স্পষ্ট করেনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। দেশটিতে বেসামরিক সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না।
আবি আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সর্বজনীন সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য নেতৃত্বের শারীরিক সক্ষমতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। সামরিক প্রতিষ্ঠান থেকে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, দলগত কাজ, জবাবদিহি ও নেতৃত্বের শিক্ষা পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর জানান, সৈনিকদের লক্ষ্য থাকে, আর বেসামরিক মানুষের থাকে উদ্দেশ্য। উভয়ের লক্ষ্যই বিজয়। তাই সামরিক ও বেসামরিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলার সমন্বয় দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বেশ জটিল। উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এখনো সংঘাত চলছে। আমহারা অঞ্চলে লড়াই এবং ওরোমিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতাও অব্যাহত রয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার উত্তেজনা বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন আবি আহমেদ। এর আগেও তার সরকার সামরিক প্রস্তুতি ও জাতীয় উন্নয়নকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে।
