এপি’র প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনের বেশি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় প্রথমে মার্কিন ঘাঁটির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এরপর গুদাম, সেনাদের আবাসনসহ অন্যান্য স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এতে কয়েক শ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র যাচাই এবং মধ্যপ্রাচ্যের চারজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই বিশ্লেষণ তৈরি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
ওই কর্মকর্তাদের কেউ হামলার বিষয়ে সরাসরি জানেন, আবার কেউ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেয়েছেন।
এপি জানিয়েছে, গত আগস্ট পর্যন্ত ইরান ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দাবি করা ১১৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান শুরুতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং শত্রুপক্ষের হামলা শনাক্ত করার আগাম সতর্কতাব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে। এরপর গুদাম, সেনাদের থাকার জায়গা এবং অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
এতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অনেক সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সামরিক ঘাঁটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম।
মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন এবং তেহরানও বড় ধরনের পালটা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
এ অবস্থায় আবার সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এপির এই বিশ্লেষণে গত আট মাসের সংঘাতে ইরানের পালটা হামলার কৌশল এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত পর্যালোচনার বাইরেও নতুন তথ্য তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর কয়েক শ ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।


