Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে দ্রুত জয়ের আশা ইসরাইলের, বাস্তবতা কতটা অনুকূলে?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ এএম

ইরান যুদ্ধে দ্রুত জয়ের আশা ইসরাইলের, বাস্তবতা কতটা অনুকূলে?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য তৃতীয় দফার যুদ্ধে ভিন্ন কৌশল নিতে চায় ইসরাইল। দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের কিছু বিশেষ সামরিক ও কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণে এবারের সংঘাত আগের মতো দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে দ্রুত একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যেতে পারে। তবে এই আশাবাদের বিপরীতে বড় ধরনের ঝুঁকিও দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন সাংবাদিক ইয়োনাহ জেরেমি বব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ইসরাইলি মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের তৃতীয় দফার যুদ্ধ সামনে আসতে পারে। তবে এই যুদ্ধই শেষ লড়াই হবে, নাকি আগের মতো সংঘাতের আরেকটি পর্ব মাত্র— এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।


ইসরাইলের অভিজ্ঞতায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অন্যতম উদাহরণ গাজা। ২০০৮-০৯, ২০১২, ২০১৪ ও ২০২১ সালে হামাসের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত হয়েছে। এর বাইরে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগেও একাধিক ছোটখাটো সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। ফলে ইরানও ইসরাইলের জন্য একই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সমস্যায় পরিণত হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করা কঠিন হলে দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, হামলা থেকে বিরত রাখা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমিয়ে দেওয়াই ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা ইসরাইলের বিভিন্ন শহরের জন্য নিয়মিত হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, বিদেশি বিনিয়োগ, বিমান চলাচল এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিপুল ব্যয়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে হবে।


তবে ইসরাইল যদি সামরিকভাবে এগিয়ে থাকে, তারপরও ইরান নতুন কোনো অস্ত্র বা কৌশল ব্যবহার করে পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে— এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো হুমকি না থাকলে এখনই কেন নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে চাইবে ইসরায়েল? এসব কর্মসূচি ভবিষ্যতে আবারও হুমকি হয়ে উঠতে পারে, তবে আগামী কয়েক বছরে সেগুলো বড় বা তাৎক্ষণিক বিপদ হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে এবারের সংঘাত আগের তুলনায় দ্রুত ও কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন ইসরাইলের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের আশাবাদের পেছনে দুটি বিষয় রয়েছে।

প্রথমত, ইরানে ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার বিরোধী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। দেশটির কয়েক কোটি মানুষ সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট এবং শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চান বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা। তাদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ইরানের সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ইসরাইলের পাশে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের সামরিক বাহিনী একসঙ্গে অভিযান চালালে ইরানের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়বে। ২০২৬ সালের পুরো সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে, যা এককভাবে ইসরাইলের পক্ষে সম্ভব হতো না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইরানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, এই অসন্তোষকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ইরানের শাসনব্যবস্থা বড় সংকটে পড়তে পারে।

তবে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা হামাসকে মোকাবিলার চেয়ে অনেক কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বড় ধরনের স্থল অভিযান রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব অথবা সামরিকভাবে অত্যন্ত জটিল বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরাইলের কিছু কর্মকর্তা তথ্য অনুযায়ী, নতুন দফার হামলা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে পারে। এমনকি একপর্যায়ে দেশটির শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনও আসতে পারে বলে তাদের ধারণা।

তবে এই সম্ভাবনা নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ৪০ দিনে ইরানের ওপর ৩০ হাজারের বেশি বোমা নিক্ষেপ করেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় আদায় করা যায়নি। শাসনব্যবস্থারও পতন ঘটেনি। ফলে নতুন করে হামলা চালালেই দ্রুত বিজয় আসবে— এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের এই কৌশল সফলও হতে পারে, আবার ব্যর্থও হতে পারে। তবে যুদ্ধের সম্ভাব্য সাফল্যের পাশাপাশি ইসরাইলের সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতিকে কতটা মূল্য দিতে হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয়।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা

ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা

‘যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র’

‘যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র’

ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া

ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া

আরও পড়ুন

ব্রাজিলে ভয়াবহ ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, বিদ্যুৎহীন ৮২ হাজারের বেশি মানুষ

ব্রাজিলে ভয়াবহ ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, বিদ্যুৎহীন ৮২ হাজারের বেশি মানুষ

গাধা-হাতিই কেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতীক?

গাধা-হাতিই কেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতীক?

স্বর্ণের দামে উত্থান-পতন, এবার কমল যতটা

স্বর্ণের দামে উত্থান-পতন, এবার কমল যতটা

আলজাজিরার বিশ্লেষণ ১৯৪৬ সাল থেকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ক্ষমতাসীনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে?

১৯৪৬ সাল থেকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ক্ষমতাসীনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম