ঘুমন্ত স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা, নারীর যাবজ্জীবন
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বামীকে নাইলনের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে এক নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন ভারতের তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট।
সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সিয়াসাত ডেইলি।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া ও পারিবারিক নির্যাতনের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
আদালত আগুরলা লক্ষ্মী ওরফে গৌরীর করা আপিল খারিজ করে তার সাজা বহাল রাখেন। বিচারপতি কে লক্ষ্মণ ও বিচারপতি কে সুজানার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টিও বহাল রাখা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে স্বামী কোমুরাইয়াকে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নাইলনের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন লক্ষ্মী।
হত্যার পর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে বোঝাতে তিনি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জানান, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।
তবে পরদিন সকালে গোসল করানোর সময় স্বামীর গলায় একটি দাগ দেখতে পান স্বজনেরা। এরপর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লক্ষ্মী হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা প্রতিবেদনে হত্যার প্রমাণ
মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, চিকিৎসা প্রতিবেদনেও শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। নিহতের গলায় দড়ির দাগ এবং হাইয়য়েড হাড় (জিহ্বার নিচে থাকা ছোট হাড়) ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। এসব আলামত থেকে তার শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এ ছাড়া আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য, লক্ষ্মীর কথিত স্বীকারোক্তি এবং হত্যায় ব্যবহৃত নাইলনের দড়ি উদ্ধারের বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণগুলো পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
হত্যার ঘটনা গোপন করার দায়েও ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তার সাজা বহাল রাখেন আদালত।
এর আগে বিচারিক আদালত হত্যার দায়ে ৩০২ ধারায় লক্ষ্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপরাধের প্রমাণ গোপন করার দায়ে ২০১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট সেই সাজাই বহাল রেখেছেন।


