নেতানিয়াহুর মসনদে এবার সাবেক সেনাপ্রধানের চোখ, একজোট বিরোধীরা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একজোট হয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী নেতারা। নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা। তবে সরকার গঠনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেল আবিবের উত্তরে হার্জলিয়ায় বিরোধী জোটের নেতাদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এটিই ছিল ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের নেতাদের প্রথম যৌথ বৈঠক। বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করার কথা রয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে আইজেনকটের দল ইয়াশার পার্টি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান এবং ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতা ইয়ার লাপিদ অংশ নেন।
বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সব বিরোধী দল প্রেসিডেন্টের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটের নাম প্রস্তাব করবে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের নীতিমালা ও জোট গঠনের চুক্তি চূড়ান্ত করতে দলগুলোর আলোচক দল দ্রুত কাজ শুরু করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নেতারা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে সরিয়ে একটি ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠন করবেন।
বিরোধী নেতারা আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি মূলনীতির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, সরকারের সব দলকে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তবে এসব শর্ত আরব নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দলকে জোটের বাইরে রাখার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বৈঠকের পর বেনেট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় নেই। অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে মতবিরোধ
গত নির্বাচনে ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং রা'আম পার্টি আটটি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
এ অবস্থায় সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তাদের সঙ্গে জোট করা নিয়ে বিরোধী নেতাদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে।
বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান প্রকাশ্যেই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, আরব দলগুলোকে বাদ দেওয়া বর্ণবাদী আচরণ। অন্যদিকে লিবারম্যান আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করছেন। তবে তিনিও নতুন নির্বাচন এড়াতে চান।
জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এদিকে সোমবার নেতানিয়াহু নিজের নেতৃত্বে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দল লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়ে নির্বাচনে এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বিরোধী নেতাদের কেউই তার সঙ্গে সরকার গঠনে আগ্রহ দেখাননি।
প্রেসিডেন্ট হারজগ বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করবেন। আরব দলগুলোর আইনপ্রণেতাদের সমর্থন পেলে আইজেনকটই সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি সুপারিশ পেতে পারেন। ফলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান ঘটানোর পথ তৈরি হতে পারে।
