আল-জাজিরার মতামত
দুই বছরের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক তীব্র সংকটের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ওয়াশিংটনে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে অভূতপূর্ব এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সাধারণত মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট হাতছাড়া হলে অচলাবস্থা তৈরির যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেলায় প্রযোজ্য নাও হতে পারে। ট্রাম্প প্রথাগত রক্ষণশীল আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক নীতি মেনে চলার বদলে লেনদেনমূলক রাজনীতি পছন্দ করেন। ফলে আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহ্যগত কোনো রাজনৈতিক স্তব্ধতা আসবে না; বরং এটি হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও আইনসভার মধ্যে এক ধারাবাহিক ও তীব্র সাংবিধানিক লড়াইয়ের সূচনা।
অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রে রিপাবলিকান পার্টির ঐতিহ্যগত মুক্তবাজার বা সীমিত সরকারি হস্তক্ষেপের ধারণাকে ট্রাম্প বহু আগেই ভেঙে দিয়েছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুরক্ষাবাদী বাণিজ্য নীতি এবং দেশীয় শিল্প রক্ষায় সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের চিন্তাভাবনা ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল ধারার অনেকটাই কাছাকাছি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে সরাসরি সংঘাত না গিয়ে বিষয়ভিত্তিক ও অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন ট্রাম্প। যেখানে সমঝোতা সম্ভব হবে না, সেখানেও ট্রাম্প দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি কংগ্রেসকে তোয়াক্কা না করে প্রেসিডেন্টের বিশেষ ‘নির্বাহী ক্ষমতা’ ও জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। ডেমোক্র্যাটদের আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আদালতের দীর্ঘসূত্রিতাকেই ট্রাম্প তার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন।
তবে সবচাইতে বড় সংঘাত তৈরি হবে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যুতে। সংবিধানে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে ব্যাপক স্বাধীনতা দেওয়া হলেও, যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত আইন এবং বাজেটের রাশ টেনে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ ও একক সিদ্ধান্ত আটকানোর চেষ্টা করবে। অন্যদিকে ট্রাম্প সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে যেকোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অটল থাকবেন।
এদিকে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস ট্রাম্প প্রশাসনকে কাবু করতে অভিশংসন ও নিয়মিত তদন্তের অস্ত্র ব্যবহার করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না। কংগ্রেসের কমিটিগুলো তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে লাগাতার সমন ও অনুসন্ধান চালাতে পারে। তবে ট্রাম্প কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক এই যুদ্ধে ভয় পান না; বরং তিনি এই তদন্ত ও অভিশংসনের প্রক্রিয়াকে তার ভোটারদের কাছে প্রতিপক্ষের একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও অন্যায্য চক্রান্ত হিসেবে তুলে ধরে নিজের জনপ্রিয়তাকে আরও চাঙ্গা করবেন। যেহেতু সিনেটে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়া প্রায় অসম্ভব, তাই অভিশংসনের মতো প্রক্রিয়াগুলো কেবল সাংবিধানিক উত্তেজনাই বৃদ্ধি করবে।
সব মিলিয়ে, আগামী দুই বছর ওয়াশিংটনে নিষ্ক্রিয় কোনো সময় পার হবে না; বরং শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হবে একের পর এক সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে। ট্রাম্পের একক নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রবণতা এবং কংগ্রেসের কঠোর অবস্থানের ফলে মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামোর যে চরম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তার কোনো আধুনিক দৃষ্টান্ত আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব।

-6aeb9691dc1c5.jpg)