লাখ লাখ মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, নিয়ন্ত্রণে ৭০ হাজার পুলিশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ২০০টি বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন প্রায় ছয় লাখ মানুষ। বিক্ষোভের পাশাপাশি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালন করেছেন বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা। কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানী প্যারিসে শুরু হওয়া বড় সমাবেশে শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে- ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, সব শ্রেণির কর্মীর বেতন বাড়ানো, করব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিক্ষা, রেল, হাসপাতাল ও ডাক বিভাগের শ্রমিক সংগঠনগুলো ধর্মঘটের ডাক দেয়। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এদিন প্রায় ১৬ শতাংশ শিক্ষক কর্মবিরতিতে অংশ নেন। বিক্ষোভের কারণে আইফেল টাওয়ার ও আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফও বন্ধ রাখা হয়।
প্যারিসের সমাবেশে ফরাসি শ্রমিক সংগঠন সিজিটির নেতা সোফি বেনে বলেন, শ্রমিকেরা দাবি আদায়ে সফল হবেন কি না, সেটি এখন প্রশ্ন নয়; বরং কতটা দাবি আদায় করতে পারবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। প্রথমে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়গুলোর অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশের অবনতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনা ঘটে।
উত্তরের শহর লিলে এক ইতিহাসের শিক্ষার্থী আলজাজিরাকে বলেন, কম মজুরি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি সেবার ঘাটতি নিয়ে মানুষের মধ্যে সম্মিলিত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মার্সেই শহরের এক সমাজকর্মীও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, বাজারের খরচ মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে।
বেশির ভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও লিওঁ, নঁত ও তুলুজে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। লিওঁতে মুখোশধারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তুলুজের কাছে একটি স্কুলেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এদিকে আগামী এপ্রিলে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চলমান আন্দোলন দেশটির সরকারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
