নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ছিল ইসরাইলের, ভেস্তে দেয় যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে চলমান উত্তেজনা এবং গোপন তৎপরতার একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
সম্প্রতি ইসরাইলি গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার অনুগত মোসাদ প্রধান রোমান গফম্যান। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।
তবে এই অভিযানের পেছনে ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের কোনো সমর্থন ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, এই হামলা বড় ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে এবং এর ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে।
কিন্তু সব বাধা সত্ত্বেও ওই অজ্ঞাত অভিযানের প্রস্তুতি চলতে থাকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এক ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মীর ভুলে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কানে চলে যায় এবং দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয় তারা।
সামরিক সেন্সরশিপের কঠোর নজরদারির মধ্যেই প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’।
তবে সম্প্রচারিত এই প্রতিবেদনটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরাইলি নির্বাচনের আগে কোনো হামলার পরিকল্পনা এজেন্ডায় ছিল না—প্রধানমন্ত্রী নিজেই সে সময় বিষয়টি পরিষ্কার করেছিলেন।’
সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধ
নির্বাচনের ঠিক আগে এ ধরনের প্রতিবেদন আরও প্রকাশ পেয়েছিল। নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে, গত ২৫ অক্টোবর ‘চ্যানেল ১২’ জানায়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং আইডিএফ (ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস) প্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে এক ‘নজিরবিহীন উত্তেজনা’ তৈরি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারে—আইডিএফ প্রধানকে এমন একটি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী, যা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সেসময় তীব্র বিরোধ দেখা দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির ওই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং আরও আলোচনার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর কাছ থেকে আইনি অনুমোদনের লিখিত দলিল দাবি করেন।
এক সামরিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘এটি এমন এক পদক্ষেপ, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারত।’
ঘটনাটি নিয়ে আরেক ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই বিরোধের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ ‘অবাস্তব’ এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার কোনো হাতাহাতি বা লড়াই হয়নি। তবে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি সম্প্রতি আইডিএফ এবং মোসাদকে ইরানি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে ‘চ্যানেল ১২’ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে অবিলম্বে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।
নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, এই আলোচনার ফলে ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক চাপ কমে যাবে। অন্যদিকে ট্রাম্প চান, ইসরাইল যেন এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানকে পরাস্ত করেছি। ইরানের সঙ্গে আমাদের পরিস্থিতি বেশ ভালো, আমরা কথা বলছি। গত ছয় বা সাত মাসে আমাদের কোনো সেনা নিহত হয়নি।’ এ ছাড়া তার মধ্যস্থতা না থাকলে ইসরাইল তথা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হতো বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

