Logo
Logo
×

Advertisement

ভারত

ভারতে অনলাইনে ছড়ানো হচ্ছে মুসলিমবিদ্বেষী গান

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম

ভারতে অনলাইনে ছড়ানো হচ্ছে মুসলিমবিদ্বেষী গান

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সহযোগী ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সমর্থকরা সন্ত্রাসবাদের কুশপুত্তলিকা পোড়াচ্ছেন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। গত ২৪ এপ্রিলের ছবি। আল-জাজিরা

Advertisement

কাশ্মীরে গত ২২ এপ্রিল বন্দুকধারীদের হামলার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ভারতে ইউটিউবে নতুন একটি গান প্রকাশ পেয়েছে। ওই গানে ভারতীয় মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ উগরে দেওয়া হয়েছে। আল-জাজিরা

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ওই হামলায় ২৫ পর্যটক ও একজন স্থানীয় কাশ্মীরি ঘোড়াচালক নিহত হয়েছেন। গত দুই দশকের বেশি সময়ে কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এটাই সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা।

ইউটিউবে নতুন যে গান প্রকাশ পেয়েছে সেটির শিরোনাম, ‘পেহলে ধরম পুছা’ (তারা প্রথমে তাদের ধর্ম জানতে চেয়েছিল)। ওই গানের কথায় মুসলিমরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ইউটিউবে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশিবার ওই গান দেখা হয়েছে। এটিই মুসলিমবিদ্বেষী একমাত্র গান নয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল–জাজিরা এমন আরও অন্তত ২০টি গান খুঁজে পেয়েছে। গানগুলোতে ইসলাম নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো ও বিদ্বেষমূলক কথা বলা হয়েছে। এগুলোই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে বিদ্বেষ ও আতঙ্ক।

গানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ভয়ংকর সব বর্ণনা রয়েছে। পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর হামলার পর অনেকে দাবি করেছেন, বন্দুকধারীরা হিন্দু পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন। ওই সব গানে এ বিষয়টির উল্লেখ করে বলা হয়, ‘ভারতীয় মুসলিমদের আর বিশ্বাস করা যায় না।’ অথচ বন্দুকধারীদের থামাতে গিয়ে একজন মুসলিম ঘোড়াচালক সেদিন প্রাণ হারিয়েছেন। আবার আহত পর্যটকদের উদ্ধারে স্থানীয় মুসলিমরা এগিয়ে এসেছেন।

গত সপ্তাহে উগ্র জাতীয়তাবাদী কিছু গানে পাকিস্তানকে পারমাণবিক হামলার মাধ্যমে ধ্বংস করার ডাক দেওয়া হয়েছে। কিছু গানে ভারত সরকারের প্রতি পাকিস্তানকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে’ বলা হয়েছে। আবার ‘পাকিস্তানিদের রক্তের বিনিময়ে পহেলগাঁওয়ে নিহতদের প্রতিশোধ’ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে কিছু গানে।

উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন গ্রুপ থেকে গানগুলো অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা গানগুলো বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপে ছড়িয়ে ভারতীয়দের ভেতর ভয়, ঘৃণা এবং বিভাজন সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

এমন প্রচারণায় ভারতের একাধিক রাজ্যে বাস্তবেও মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলাসহ সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও উত্তরাখন্ডে মুসলিমদের ওপর হামলা হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কাশ্মীরি মুসলিমদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, রাস্তায় হকারদের মারধর করা হচ্ছে। প্রতিশোধমূলক আরও নানা কর্মকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন তারা।

কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রে মুসলিম রোগীদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন হিন্দু চিকিৎসকেরা।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার উত্তর প্রদেশের আগ্রায় একজন মুসলিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী এ হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছেন, পহেলগাঁওয়ে হামলার প্রতিশোধ নিতে এটা করেছেন তিনি।

এ ছাড়া এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে নানা ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে এবং হামলার সময়ের গিবলি ইমেজ তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পহেলগাঁওয়ে হামলার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে হামলা–সংক্রান্ত নানা কনটেন্টের বন্যা বইছে।

অধিকাংশ কনটেন্টের সুর প্রায় একই রকম, যেমন সেগুলোতে পহেলগাঁওয়ে হামলার বিষয় এমনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যেন এটা হিন্দুত্ববাদ ও সনাতন ধর্মের ওপর হামলা ছিল। কোথাও কোথাও মুসলমানদের হুমকি বলে উল্লেখ করে হিন্দুদের একজোট হতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

আল–জাজিরা মুসলিমবিদ্বেষী যেসব গান পরীক্ষা করে দেখেছে, সেসবের একটির শিরোনাম, ‘জাগো হিন্দু জাগো’। এ গানে ‘দেশের ভেতরে বিশ্বাসঘাতকদের’ চিহ্নিত করতে বলা হয়। এখানে মূলত মুসলিমদের ইঙ্গিত করা হয়েছে। গানের ভিডিওটি ইউটিউবে এ পর্যন্ত দেখা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি। এতে পহেলগাঁওয়ে হামলা নিয়ে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টও ব্যবহার করা হয়েছে।

‘মোদি জি আব মহা যুধ হো জানে দো’ (মোদি, সেই মহান যুদ্ধ শুরু করুন) শিরোনামের আরেকটি গানে ভারতে বসবাসকারী মুসলিমদের ‘সাপের’ সঙ্গে তুলনা করা হয়। অন্য একটি গানে পহেলগাঁওয়ের হামলাকে ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ভারতের হিন্দুদের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় অপর একটি গানে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কোনো পোস্টে পহেলগাঁওয়ে হামলাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং ভারত সরকারকে ইসরাইলের দেখানো পথে প্রতিশোধ নিতে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

হামাসের ওই হামলার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রতিশোধমূলক হামলার নামে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। তাদের হামলায় এ পর্যন্ত ৫২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এ উপত্যকার অধিকাংশ স্থাপনা। তা থেকে বাদ যায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, শরণার্থীশিবির, এমনকি কোনো হাসপাতালও।

পহেলগাঁওয়ে হামলার পর থেকে ভারতের বিভিন্ন সড়কে কাশ্মীরি ও মুসলিমদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। দ্য অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর)–এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২২ এপ্রিলের হামলার পর ভারতজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও ঘৃণামূলক বক্তব্য দেওয়ার ২১টি ঘটনা ঘটেছে। কাশ্মীরি নারী ও শিক্ষার্থীরাও নৃশংসতা এবং ঘৃণার শিকার হচ্ছেন।

Advertisement

কাশ্মীরে হামলা পহেলগাঁও মুসলিমবিদ্বেষী

Advertisement

আরও পড়ুন

ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার উপহার দেওয়া হবে’

‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার উপহার দেওয়া হবে’

২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউরোপ-ইসরাইলের সম্পর্কে ফাটল, নির্বাচনে কি বদল আসবে?

ইউরোপ-ইসরাইলের সম্পর্কে ফাটল, নির্বাচনে কি বদল আসবে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম