ভাংতি রোজার কাফফারা আদায়ে সক্ষম ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ দিলে দায়মুক্ত হবে কি?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
সক্ষম ব্যক্তির ভাংতি রোজার কাফফারা আদায়। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোনো ব্যক্তি যদি জীবনে অনেক রোজা পানাহার করে ভাঙে এবং অনেক রোজা রাখে না , কিন্তু সে একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে সক্ষম। এমতাবস্থায় ওই ব্যক্তি কাফফারা স্বরূপ ৬০টি রোজা না রেখে তার বদলে অন্য কাউকে ফিদিয়া বা ক্ষতিপূরণ দিলে কাফফারা আদায় হবে কি?
‘না’, কাফফারার রোজা রাখতে সক্ষম ব্যক্তি অন্য কোনো উপায়ে কাফফারা (ফিদিয়া/ক্ষতিপূরণ) আদায় করলে কাফফারা আদায় হবে না। যে ব্যক্তি লাগাতার ৬০টি রোজা রাখতে সক্ষম নয়, কেবল তার জন্য ফিদিয়া বা ক্ষতিপূরণ আবশ্যক।
ফিদিয়া বা ক্ষতিপূরণ হলো—
ফিদিয়া (আরবি: فدية) হলো ইসলামী শরিয়তে নির্ধারিত একটি আর্থিক বা খাদ্যভিত্তিক ইবাদত। কোনো মুসলমান ব্যক্তি যদি স্থায়ীভাবে রোজা রাখতে অক্ষম হন—অর্থাৎ ভবিষ্যতেও রোজা আদায়ের সক্ষমতা নেই—তাহলে রোজার পরিবর্তে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, সেটাই ফিদিয়া।
যাদের জন্য ফিদিয়া প্রযোজ্য
> অত্যন্ত বৃদ্ধ ব্যক্তি, যাদের আর রোজা রাখার শক্তি নেই
> দীর্ঘস্থায়ী বা জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, যাদের সুস্থ হওয়ার আশা নেই
এক্ষেত্রে রোজা কাজা করাও সম্ভব নয়, তাই প্রতিটি রোজার বদলে ফিদিয়া আদায় করতে হয়।
ফিদিয়ার পরিমাণ
একটি রোজার ফিদিয়া হলো—
একজন মিসকিনকে এক বেলার পেটভরে খাবার দেওয়া অথবা সেই খাবারের সমমূল্য অর্থ প্রদান করা। পরিমাণটি সাধারণত সাদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ ধরা হয়।
যাদের জন্য ফিদিয়া নয়
> সাময়িক অসুস্থ ব্যক্তি
> সফরে থাকা ব্যক্তি
> গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী নারী (যদি পরে রোজা কাজা করার সক্ষমতা থাকে)
এদের ক্ষেত্রে রোজা কাজা করতে হবে, ফিদিয়া নয়।
কুরআনের নির্দেশনা
আল্লাহ তায়ালা বলেন—
وَ عَلَی الَّذِیۡنَ یُطِیۡقُوۡنَهٗ فِدۡیَۃٌ طَعَامُ مِسۡكِیۡنٍ
‘আর যারা (রোজা রাখতে) সক্ষম নয়, তাদের জন্য বদলা হিসেবে একজন মিসকিনকে খাওয়ানো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৪)
সংক্ষেপে বলা যায়, ফিদিয়া হলো রোজা রাখতে স্থায়ীভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য রোজার বিকল্প ইবাদত—যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর হুকুম পালন করেন।
রোজার কাযার আদায় করতে সক্ষম থাকা অবস্থায় রোযার ফেদিয়া দেয়া অনর্থক কাজ ছাড়া কিছু নয়। কারণ সক্ষম থাকা অবস্থায় ফেদিয়া দিলে রোজা রাখার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হবে না। তাই রোজা রাখতে সক্ষম হলে কাযাই আদায় করতে হবে। (বিনায়া শরহুল হিদায়া-৪/৩০৮)
হাদিস পাকে এসেছে—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ: هَلَكْتُ، قَالَ: «وَمَا أَهْلَكَكَ؟» قَالَ: وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَعْتِقْ رَقَبَةً» قَالَ: لَا أَجِدُ، قَالَ: «صُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ» قَالَ: لَا أُطِيقُ، قَالَ: «أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا»
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কে ধ্বংস করেছে? সাহাবি বললেন, রমজানে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, তাহলে এর বদলে একটি গোলাম আজাদ কর। সাহাবি বললেন, আমি এতে সক্ষম নই। নবীজি (সা.) বললেন, তাহলে লাগাতার দুই মাস রোজা রাখ। সাহাবি বললেন, আমি এতেও সক্ষম নই। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাহলে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াও। (ইবনে মাজাহ ১৬৭১, মুসনাদে আহমাদ ৬৯৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার ১১০৭, ইবনে খুজাইমা ১৯৪৯, ইবনে হিব্বান ৩৫২৭)।
