বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
দুর্ঘটনায় কুরবানির পশু মারা গেলে কি নতুন পশু কিনতে হবে? ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা অনেক আগেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু কখনো কখনো ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, যেমন— বজ্রপাত, সড়ক দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হয়ে যাবে, নাকি নতুন করে আরেকটি পশু কিনতে হবে?
ইসলামি শরিয়ত এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হওয়ায় এর বিধান সঠিকভাবে জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।
বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কোরবানি আদায় হবে?
ফিকহের বিধান অনুযায়ী, কেউ কুরবানির পশু কেনার পর যদি সেই পশু বজ্রপাত, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে মারা যায়, তাহলে সেই পশুর মাধ্যমে কুরবানি আদায় হবে না।
কারণ কুরবানির মূল শর্ত হলো— নির্ধারিত সময়ে জীবিত পশুকে শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা। দুর্ঘটনায় মৃত পশু কুরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ে ও খোলাসাতুল ফাতাওয়া-তে উল্লেখ রয়েছে, ‘কুরবানির পশু যদি মারা যায়, তাহলে তার দ্বারা কুরবানি আদায় হবে না। কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকলে নতুন পশু কিনে কুরবানি করতে হবে।’ (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খোলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯)
কার ওপর নতুন পশু কেনা ওয়াজিব হবে
১. যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব
যদি ব্যক্তি সামর্থ্যবান হন এবং তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে পশু মারা যাওয়ার পর তাকে নতুন আরেকটি পশু কিনে কুরবানি করতে হবে। কারণ ওয়াজিব ইবাদত কেবল পশু কেনার মাধ্যমে আদায় হয়ে যায় না; বরং শরিয়তসম্মত জবাইয়ের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়।
২. যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়
যদি কারো ওপর মূলত কুরবানি ওয়াজিব না থাকে, কিন্তু তিনি নফল কুরবানির নিয়তে পশু কিনে থাকেন এবং সেই পশু দুর্ঘটনায় মারা যায়, তাহলে তার ওপর নতুন পশু কেনা বাধ্যতামূলক নয়। কারণ তার ওপর আগে থেকেই কুরবানি ফরজ বা ওয়াজিব ছিল না।
কুরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা
মহান আল্লাহ তাআলা কুরবানিকে নামাজের সঙ্গে উল্লেখ করে এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
‘অতএব আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।’ (সুরা আল-কাওসার: আয়াত ২)
কুরবানি না করার ব্যাপারে হাদিসের সতর্কতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরবানির সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত—
مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
‘যার কুরবানি করার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।’ (ইবনে মাজাহ ৩১২৩)
কাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব?
মুসলমান নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, যার কাছে জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত—
- সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা
- সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা
- এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে
তাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়।
কুরবানির পশু বজ্রপাতে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় মারা গেলে সেই পশুর মাধ্যমে কুরবানি আদায় হবে না। যদি ব্যক্তি সামর্থ্যবান হন এবং তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে নতুন পশু কিনে কুরবানি করতে হবে। তবে যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, তাদের জন্য নতুন পশু কেনা বাধ্যতামূলক নয়। ইসলাম আমাদেরকে শুধু ইবাদতের নির্দেশই দেয়নি; বরং সঠিক পদ্ধতিতে ইবাদত আদায়ের শিক্ষাও দিয়েছে। তাই কুরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে শরিয়তের বিধান জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহভাবে কুরবানি আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।


