শয়তান কখন মানুষের পেছন থেকে হাল ছেড়ে দেয়?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানুষের জন্মলগ্ন থেকেই শয়তান তার প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে পথভ্রষ্ট করার জন্য ওঁত পেতে থাকে। প্রতিটি মুহূর্তে মুমিনের ইমান ও আমল নষ্ট করাই তার মূল লক্ষ্য। তবে শয়তানের এই নিরন্তর প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও এমন একটি মুহূর্ত আসে, যখন সে মুমিনের অটলতা ও দৃঢ়তার সামনে সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
আমলে ধারাবাহিকতা ও শয়তানের প্রতিক্রিয়া
তাবেয়ী ইমাম হাসান আল-বসরী (রহিমাহুল্লাহ) শয়তানের সঙ্গে মুমিনের আত্মিক সংগ্রামের চমৎকার চিত্র তুলে ধরেছেন।
প্রাথমিক বাধা ও আক্রমণ: শয়তান যখন দেখে কোনো বান্দা ইবাদত-বন্দেগীতে ধারাবাহিক হতে শুরু করেছে, তখন সে তাকে থামানোর জন্য বারবার প্ররোচনা দেয় এবং নানা কৌশলে পেছনে লেগে থাকে।
শয়তানের হাল ছেড়ে দেওয়া: কিন্তু বান্দা যখন শয়তানের প্ররোচনা উপেক্ষা করে কোনোভাবেই আমল থামায় না এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে নেক আমল চালিয়ে যায়, তখন শয়তান একপর্যায়ে হতাশ হয়ে ধীরে ধীরে হাল ছেড়ে দেয়।
সতর্কবার্তা ও গাফলতের সুযোগ: তবে মুমিনকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। শয়তান দূরে সরে গেলেও সে সুযোগের সন্ধানে থাকে। বান্দা যদি সামান্যতম এদিক-সেদিক হয় কিংবা একটু গাফেল (উদাসীন) হয়ে পড়ে, শয়তান ঠিক তখনই তাকে পুনরায় শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে বসে।
কুরআনের দৃষ্টিতে শয়তানের কৌশল ও মুমিনের ঢাল
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা শয়তানের দুর্বলতা এবং মুমিনের ধারাবাহিক ইখলাসের শক্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—
শয়তানের চক্রান্তের দুর্বলতা
إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
‘নিশ্চয়ই শয়তানের ষড়যন্ত্র একান্তই দুর্বল।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৭৬)
একনিষ্ঠ বান্দাদের ওপর শয়তানের ক্ষমতাহীনতা
قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ • إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ
‘ইবলিস বলল: আপনার ইজ্জতের কসম! আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব; তবে তাদের মধ্য থেকে আপনার খাঁটি ও একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া।’ (সুরা সোয়াদ: আয়াত ৮২-৮৩)
গাফেল হওয়ার ভয়াবহ পরিণতি
وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ
‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন হয়ে যায়, আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করে দিই, অতঃপর সে-ই হয় তার চিরসঙ্গী।’ (সুরা আজ-যুখরুফ: আয়াত ৩৬)
হাদিসের আলোকে ধারাবাহিক আমলের গুরুত্ব
শয়তানের ফাঁদ থেকে বাঁচতে এবং আল্লাহর প্রিয় হতে রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা আমলে নিয়মিত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন—
প্রিয়তম আমল
أَحَبُّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ
‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো তা, যা নিয়মিত করা হয়—যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।’ (বুখারি ৬৪৬৫)
শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা
إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ
‘নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্তের শিরা-উপশিরায় চলাচল করে।’ (মুসলিম ২১৭৫)
শয়তানের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হলো আমলে অটলতা এবং আল্লাহর স্মরণে সদা সজাগ থাকা। আমল যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, তা নিয়মিত পালন করলে শয়তানের সমস্ত জাল ছিন্ন হয়ে যায়। পক্ষান্তরে ক্ষণিকের উদাসীনতাই হতে পারে শয়তানের প্রত্যাবর্তনের কারণ; তাই পার্থিব জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি ও ইবাদতের ধারাবাহিকতাই মুমিনের সবচেয়ে বড় আত্মরক্ষা।

