Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

জীবনের সংকট কাটাতে, রিজিকে বরকত পেতে ১০ আমল ও দোয়া

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

জীবনের সংকট কাটাতে, রিজিকে বরকত পেতে ১০ আমল ও দোয়া

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

মানুষের জীবন কখনো সুখে, কখনো দুঃখে; কখনো প্রাচুর্যে, আবার কখনো অভাব-অনটন ও নানা সংকটে অতিবাহিত হয়। কারো জীবনে চাকরি না পাওয়ার হতাশা, কারো ব্যবসায় লোকসান, কারো মাথায় ঋণের বোঝা, আবার কেউ পারিবারিক অশান্তি ও ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আশার আলো হারিয়ে ফেলেন।

কিন্তু একজন মুমিনের জন্য হতাশার কোনো সুযোগ নেই। কারণ রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন, সংকীর্ণতা থেকে মুক্তির পথ খুলে দিতে পারেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করতে পারেন।

পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহতে জীবনের সংকট মোকাবিলা, ঋণমুক্তি, রিজিকে বরকত, মানসিক প্রশান্তি ও আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য অসংখ্য দোয়া ও আমলের শিক্ষা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, এসব আমল কোনো যান্ত্রিক ফর্মুলা নয়; বরং ইখলাস, তাকওয়া, ধৈর্য, হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে তার রহমত কামনা করার উপায়।

আসুন, কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জীবনের সংকট মোকাবিলা এবং রিজিকে বরকত লাভের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল ও দোয়া জেনে নিই—

১. তাকওয়া অবলম্বন করা: সংকট থেকে মুক্তি ও অপ্রত্যাশিত রিজিকের পথ

জীবনের সংকট দূর করা এবং হালাল রিজিক লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি। তাকওয়া অর্থ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করা, তার নির্দেশ মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

চাকরি, ব্যবসা কিংবা জীবিকার সন্ধানে শুধু পার্থিব প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে হালাল পথে চলতে হবে। আল্লাহ তাআলা তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য সংকট থেকে উত্তরণের পথ এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۝ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ২-৩)

অতএব, জীবনের সংকট মোকাবিলায় তাকওয়া অবলম্বন, হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. ঋণমুক্তির জন্য নবীজি (সা.)-এর শেখানো বিশেষ দোয়া

ঋণের বোঝা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। ঋণ পরিশোধ করতে না পারার দুশ্চিন্তায় অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া নিয়মিত পড়া যেতে পারে। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার কাছে ঋণ পরিশোধে অক্ষমতার কথা জানালে তিনি তাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি পড়তে বলেন—

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনার হালাল দ্বারা আমাকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত করুন।’ (তিরমিজি ৩৫৬৩)

এই দোয়ায় একদিকে হালাল রিজিকের প্রার্থনা রয়েছে, অন্যদিকে মানুষের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত থাকার আকুতি রয়েছে। তাই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রত্যেক মুমিনের জন্যও এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি দোয়া।

৩. রিজিকে বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা

শুধু বেশি সম্পদ অর্জন করাই সফলতা নয়; বরং অর্জিত সম্পদে বরকত থাকাও জরুরি। অনেকের আয় বেশি হলেও সংসারে শান্তি থাকে না, অভাব লেগেই থাকে। আবার কারও আয় সীমিত হলেও আল্লাহর রহমতে তাতেই সুন্দরভাবে জীবন চলে যায়। তাই রিজিক বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্জিত সম্পদে বরকত কামনা করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো একটি দোয়ায় রয়েছে—

اللَّهُمَّ بَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক লি ফিমা আ‘তাইত।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যা দান করেছেন, তাতে বরকত দান করুন।’

এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কুনুতের দোয়ার একটি অংশ। তিনি হজরত হাসান ইবনে আলী (রা.)-কে বিতরের কুনুতের দোয়া শিখিয়েছিলেন। (আবু দাউদ ১৪২৫, তিরমিজি ৪৬৪)

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন—

فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

‘নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। যখন কোনো আহ্বানকারী আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৬)

সুতরাং দোয়া কবুলে তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থেকে তার কাছে কল্যাণ ও বরকত চাইতে হবে।

৪. ফজরের নামাজের পর রিজিক ও কল্যাণের দোয়া

দিনের শুরুটা হোক আল্লাহর স্মরণ ও কল্যাণের প্রার্থনার মাধ্যমে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পর একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পাঠ করতেন। হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজ শেষে এই দোয়া পড়তেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজকান ত্বইয়িবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র ও উত্তম রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।’ (ইবনে মাজাহ ৯২৫)

৫. অসহায়ত্ব ও সংকটে হজরত জাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া

মানুষ কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যখন তার সামনে কোনো পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। এমন সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরে সাহায্য চাইতে হবে। পবিত্র কুরআনে হজরত জাকারিয়া (আ.)-এর একটি হৃদয়স্পর্শী দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় আল্লাহর কাছে একজন উত্তরাধিকারী সন্তান প্রার্থনা করেছিলেন এভাবে—

رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

উচ্চারণ: ‘রব্বি লা তাজারনি ফারদাওঁ ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিছিন।’

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একা (নিঃসন্তান) রাখবেন না। আর আপনিই তো সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।’ (সুরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ৮৯)

৬. দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া এবং তাহাজ্জুদ আদায়

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কল্যাণ লাভের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শুধু অর্থ-সম্পদ কিংবা পার্থিব সফলতা নয়, বরং দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণ কামনা করতে হবে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন—

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া কিনা আজাবান্নার।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২০১, বুখারি ৬৩৮৯, মুসলিম ২৬৯০)

এ ছাড়া রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও সংকটের কথা তুলে ধরা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এ সময় আন্তরিকভাবে দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং নিজের অভাব-অনটন থেকে মুক্তির জন্য সাহায্য চাওয়া উচিত।

৭. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা: রিজিক ও বরকত লাভের আমল

মানুষ ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় নানা ধরনের গুনাহ করে থাকে। এসব গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব। ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; বরং পবিত্র কুরআনে একে রিজিক, সম্পদ ও কল্যাণ লাভের একটি মাধ্যম হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত নুহ (আ.) তার সম্প্রদায়কে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন—

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا ۝ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا ۝ وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا

‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২)

তাই প্রতিদিন বেশি বেশি ইস্তিগফার করা উচিত। ইস্তিগফারের জন্য সহজ বাক্য হলো—

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’

অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

তবে শুধু মুখে ইস্তিগফার পাঠ করাই যথেষ্ট নয়; বরং গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করাও জরুরি।

৮. বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর রহমতের আশা রাখা

জীবনে দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন ও বিপদ আসবেই। কিন্তু কোনো সংকটই চিরস্থায়ী নয়। একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর রহমতের ওপর বিশ্বাস রাখা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ঘোষণা দিয়েছেন—

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।’ (সুরা আলাম নাশরাহ: আয়াত ৫-৬)

এই আয়াত দুটিতে আল্লাহ তাআলা একই আশ্বাস দুবার দিয়েছেন। এর মাধ্যমে মুমিনকে শেখানো হয়েছে, কোনো কষ্টের মুখোমুখি হলে ভেঙে পড়া যাবে না। বরং ধৈর্য ধরে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।

কষ্টের সময় মনে রাখতে হবে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। অনেক সময় মানুষ যে বিষয়টিকে নিজের জন্য অকল্যাণকর মনে করে, তার মধ্যেও আল্লাহ কল্যাণ রেখে দেন।

৯. দুশ্চিন্তা, হতাশা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তির দোয়া

ঋণের চাপ, চাকরির অনিশ্চয়তা, ব্যবসায় লোকসান কিংবা পারিবারিক সমস্যার কারণে মানুষের মনে নানা ধরনের দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। এসব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং তার স্মরণে মনকে প্রশান্ত রাখা জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অক্ষমতা, অলসতা ও ঋণের ভার থেকে আল্লাহর কাছে এভাবে আশ্রয় চাইতেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উদ্বেগ ও দুঃখ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (বুখারি ৬৩৬৯)

তাই মানসিক অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তার সময় এই দোয়া পড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

১০. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও সূরা আল-ওয়াকিয়াহ পাঠ

কুরআন তিলাওয়াত মুমিনের জীবনে প্রশান্তি, সওয়াব ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন পাঠ করা, অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। বিশেষ করে সুরা আল-ওয়াকিয়াহ পাঠের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে। বর্ণনাটিতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা আল-ওয়াকিয়াহ পাঠ করবে, সে কখনো দারিদ্র্যে আক্রান্ত হবে না।

সংকটমুক্তি ও রিজিকে বরকত পেতে যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি

উল্লিখিত আমল ও দোয়াগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। তাহলো—

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করতে হবে।
  • হালাল উপার্জনের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে হবে।
  • সুদ, ঘুষ, প্রতারণা ও হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং সাধ্য অনুযায়ী দান-সদকা করতে হবে।
  • নিয়মিত দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার ও কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে।
  • ঋণ থাকলে তা পরিশোধের বাস্তব পরিকল্পনা করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে।
  • বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না।

মনে রাখতে হবে, দোয়া ও আমলের অর্থ এই নয় যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যেকের চাকরি হবে, ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে কিংবা সম্পদ বেড়ে যাবে। আল্লাহ তার হিকমত অনুযায়ী বান্দার দোয়ার জবাব দেন। কখনো চাওয়া পূরণ করেন, কখনো বিপদ দূর করেন, আবার কখনো আখিরাতের জন্য উত্তম প্রতিদান রেখে দেন।

জীবনের সংকট, অভাব-অনটন, ঋণের বোঝা কিংবা কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা—কোনোটিই একজন মুমিনের জন্য হতাশ হয়ে পড়ার কারণ হতে পারে না। কারণ মহান আল্লাহই রিজিকের মালিক, তিনিই বিপদ থেকে উদ্ধারকারী এবং তিনিই বান্দার সব দোয়া শোনেন। তাই জীবনের কঠিন সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে, নিয়মিত নামাজ আদায় করতে হবে, বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করতে হবে এবং হালাল উপার্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি ধৈর্য, সততা ও তাকওয়ার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার জীবনের সংকট দূর করুন, ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দিন, হালাল ও পবিত্র রিজিক দান করুন, উপার্জনে বরকত দিন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নসিব করুন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

জুমার আজানের পর দুনিয়াবি কাজ করা যাবে কি?

জুমার আজানের পর দুনিয়াবি কাজ করা যাবে কি?

ইমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণের প্রত্যাশা পূরণের আমল কী?

ইমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণের প্রত্যাশা পূরণের আমল কী?

জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়াই কি আবশ্যক?

জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়াই কি আবশ্যক?

খুতবা ছাড়া কি জুমার নামাজ আদায় হবে?

খুতবা ছাড়া কি জুমার নামাজ আদায় হবে?

জুমার খুতবায় হাতে লাঠি রাখা কি সুন্নত?

জুমার খুতবায় হাতে লাঠি রাখা কি সুন্নত?

হারাম খাদ্য ও অপব্যয় বর্জনই মুমিনের ইমান

হারাম খাদ্য ও অপব্যয় বর্জনই মুমিনের ইমান

আরও পড়ুন

জীবনের সংকট কাটাতে, রিজিকে বরকত পেতে ১০ আমল ও দোয়া

জীবনের সংকট কাটাতে, রিজিকে বরকত পেতে ১০ আমল ও দোয়া

জুমার আজানের পর দুনিয়াবি কাজ করা যাবে কি?

জুমার আজানের পর দুনিয়াবি কাজ করা যাবে কি?

ইমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণের প্রত্যাশা পূরণের আমল কী?

ইমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণের প্রত্যাশা পূরণের আমল কী?

জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়াই কি আবশ্যক?

জুমার খুতবা দাঁড়িয়ে দেওয়াই কি আবশ্যক?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম