কেউ দোয়া চাইলে শুধু ‘ইনশাআল্লাহ বা ফি আমানিল্লাহ’ বলাই কি যথেষ্ট?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আত্মীয়, বন্ধু কিংবা কোনো পরিচিতজন যখন স্নেহের সুরে বলেন, ‘আমার জন্য একটু দোয়া করবেন,’ তখন আমাদের চটজলদি উত্তর থাকে—‘ইনশাআল্লাহ, দোয়া করব কিংবা ফি আমানিল্লাহ।’ কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, শুধু মুখে এই আশ্বাস দেওয়াই কি যথেষ্ট, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও সুন্দর কোনো সুন্নাহসম্মত শিষ্টাচার? এ বিষয়ে আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনে রয়েছে চমৎকার ও শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত।
অন্যের কল্যাণে নবীজির সুমহান আদর্শ
কারো দোয়ার আবেদনে প্রিয়নবী (সা.) শুধু মুখে সান্ত্বনা দিয়েই ক্ষান্ত হতেন না, বরং তার প্রয়োজন বুঝে সরাসরি আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করতেন। এর একটি সুন্দর উদাহরণ পাওয়া যায় হজরত আনাস (রা.)-এর মায়ের ঘটনা থেকে।
হজরত উম্মে সুলাইম (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এসে তার প্রিয় পুত্র আনাস (রা.)-এর জন্য বিশেষ দোয়ার আবেদন করেন। তখন দয়া ও ভালোবাসার প্রতীক নবীজি (সা.) তৎক্ষণাৎ এই বলে দোয়া করেছিলেন—
اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আকছির মালাহু ওয়া ওয়ালাদাহু, ওয়া বারিক লাহু ফিমা আতাইতাহু।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন এবং তাকে যা দান করেছেন, তাতে বরকত দিন।’ (বুখারি ৬৩৪৪)
এই হাদিস থেকে আমাদের জন্য বড় শিক্ষা হলো— কেউ দোয়া চাইলে শুধু গতানুগতিক উত্তর না দিয়ে, তার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন ও পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তার জন্য দোয়া করা।
অন্যের জন্য দোয়ার ফায়দা
অন্যের জন্য দোয়া করা কেবল অপর ব্যক্তির কল্যাণই বয়ে আনে না, বরং এতে নিজের অজান্তেই বহু নেকি ও ফেরেশতার দোয়ার সৌভাগ্য অর্জিত হয়। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لِأَخِيهِ بِظهرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ، عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لِأَخِيهِ بِخَيْرٍ، قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ: آمِينَ، وَلَكَ بِمِثْلٍ
‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে ফেরেশতা বলেন, আমিন! এবং তোমার জন্যও তদ্রূপ হোক।’ (মুসলিম ২৭৩২)
পরিস্থিতি বুঝে যেভাবে উত্তর দেবেন
কারো দোয়ার আবেদনে শুধু ‘ইনশাআল্লাহ, দোয়া করব’ বলে আশ্বাস দেওয়া যেতে পারে। তবে কথাটি বলার পর ফেলে না রেখে তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মোনাজাত করা বা মনে মনে দোয়া করে নেওয়া উচিত। অবস্থা ভেদে এভাবে সুন্দর ভাষায় উত্তর ও দোয়া করা যায়—
- অসুস্থ হলে: বলুন— ‘আল্লাহ আপনাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করুন।’
- বিপদে পড়লে: বলুন— ‘আল্লাহ আপনার এই বিপদ ও সংকট দূর করে দিন।’
- রিজিকের বা কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে: বলুন— ‘আল্লাহ আপনার রিজিকে প্রশস্ততা ও বরকত দান করুন।’
- কোনো বিশেষ কাজের মুখোমুখি হলে: বলুন— ‘আল্লাহ আপনার কাজ সহজ করে দিন এবং এর একটি উত্তম পরিণতি ও সফলতা দান করুন।’
কারো দোয়ার অনুরোধ রক্ষা করা কেবল একটি সাধারণ সামাজিক শিষ্টাচার নয়, এটি মুমিনের পারস্পরিক ভালোবাসার এক পবিত্র সেতুবন্ধন। কেউ যখন আমাদের কাছে দোয়ার আবদার করেন, তখন বুঝতে হবে তিনি বিপদে বা সংকটে আল্লাহর পর আমাদের ওপর ভরসা করেছেন। তাই কথার কথা হিসেবে নয়, বরং আন্তরিক ভালোবাসা ও সুন্নাহর অনুসরণে তার জন্য হাত তুলে বা মনে মনে দোয়া করুন। এতে একদিকে যেমন ভাইয়ের কল্যাণ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ফেরেস্তার দোয়ায় ধন্য হবে আপনার নিজের জীবনও।

