Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

বড় হয়ে নিজের আকিকা নিজে দিতে পারবে কি?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

বড় হয়ে নিজের আকিকা নিজে দিতে পারবে কি?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সন্তান জন্মগ্রহণের পর শুকরিয়া আদায় স্বরূপ আকিকা করার বিধান রয়েছে ইসলামে। এটি মূলত আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পশু কুরবানি করা। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ে উম্মতকে উৎসাহিত করে ইরশাদ করেছেন—

عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ، وَيُحْلَقُ، وَيُسَمَّى»

হজরত সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি শিশু তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক থাকে; যা তার জন্মের সপ্তম দিনে জবাই করা হবে, তার মাথা মুণ্ডন করা হবে এবং নাম রাখা হবে।’ (নাসাঈ ৪২২২, আবু দাউদ ২৮৩৮)

আকিকার সঠিক সময় ও ধারাবাহিকতা

সাধারণত জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা সবচেয়ে উত্তম। তবে সেদিন সম্ভব না হলে ১৪তম বা ২১তম দিনে করা ভালো। হাদিসে এই দিনগুলোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে—

عَنْ بُرَيْدَةَ، عَن النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْعَقِيقَةُ تُذْبَحُ لِسَبْعٍ، أَوْ لِأَرْبَعَ عَشْرَةَ، أَوْ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ»

হজরত বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আকিকার পশু সপ্তম, চৌদ্দতম বা একুশতম দিনে জবাই করা হবে।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি ৫৯৩২

যদি এই তিন দিনের মধ্যেও কোনো কারণে আকিকা করা সম্ভব না হয়, তবে পরবর্তীতে জীবনের যেকোনো সময়ে তা আদায় করা জায়েজ রয়েছে।

শৈশবে না হলে বড় হয়ে নিজের আকিকা কি করা যাবে?

শৈশবে বা নির্দিষ্ট দিনে পিতা-মাতা বা অভিভাবক যদি আকিকা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। পরবর্তীতে বড় হওয়ার পর নিজের আকিকা নিজে করে নেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ এবং এতে কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে ঐতিহাসিক ও হাদিসের বর্ণনায় চমৎকার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে—

إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَقَّ عَنْ نَفْسِهِ بَعْدَ النُّبُوَّةِ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়ত প্রাপ্তির পর নিজের আকিকা নিজেই করেছেন।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ ৫১৯৪)

পূর্বসূরি বুজুর্গ ও তাবেয়িনদের জীবনেও এর সমর্থন পাওয়া যায়। প্রখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘তোমার যদি আকিকা না করা হয়ে থাকে, তাহলে তুমি নিজেই তোমার আকিকা করে নাও— যদিও তুমি ইতিমধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেছো।’

আরেক বিখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ ইবনে শিরিন (রহ.) অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বলতেন, ‘যদি আমি জানতাম যে আমার ছোটবেলায় আকিকা করা হয়নি, তাহলে আমি নিজেই আজ নিজের আকিকা করতাম।’

শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলোতে বাবা-মা আকিকা করতে পারেননি বলে মন খারাপ করার বা আফসোস করার কিছু নেই। ইসলামি শরিয়ত এই সহজ সুযোগটি আমাদের জন্য খোলা রেখেছে। যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারও শৈশবে আকিকা না হয়ে থাকে, তবে সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সময়ে নিজের পক্ষ থেকে এই সুন্নত আদায় করে নেওয়া যেতে পারে। এটি কেবল একটি আমলই নয়, বরং নিজের জীবনের শুকরিয়া আদায়ের এক অনন্য মাধ্যমও বটে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কেউ দোয়া চাইলে শুধু ‘ইনশাআল্লাহ বা ফি আমানিল্লাহ’ বলাই কি যথেষ্ট?

কেউ দোয়া চাইলে শুধু ‘ইনশাআল্লাহ বা ফি আমানিল্লাহ’ বলাই কি যথেষ্ট?

সাহাবিরা (রা.) নিয়মিত যেসব নফল ইবাদত করতেন

সাহাবিরা (রা.) নিয়মিত যেসব নফল ইবাদত করতেন

অন্যের ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে মুক্তির দোয়া

অন্যের ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে মুক্তির দোয়া

কিস্তিতে ফ্ল্যাট কেনা কি জায়েজ?

কিস্তিতে ফ্ল্যাট কেনা কি জায়েজ?

ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি করা কি শরীয়তসম্মত?

ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি করা কি শরীয়তসম্মত?

সম্পত্তিতে নারীর অধিকার, মুসলিম আইন কী বলে?

সম্পত্তিতে নারীর অধিকার, মুসলিম আইন কী বলে?

আরও পড়ুন

বড় হয়ে নিজের আকিকা নিজে দিতে পারবে কি?

বড় হয়ে নিজের আকিকা নিজে দিতে পারবে কি?

কেউ দোয়া চাইলে শুধু ‘ইনশাআল্লাহ বা ফি আমানিল্লাহ’ বলাই কি যথেষ্ট?

কেউ দোয়া চাইলে শুধু ‘ইনশাআল্লাহ বা ফি আমানিল্লাহ’ বলাই কি যথেষ্ট?

সাহাবিরা (রা.) নিয়মিত যেসব নফল ইবাদত করতেন

সাহাবিরা (রা.) নিয়মিত যেসব নফল ইবাদত করতেন

অন্যের ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে মুক্তির দোয়া

অন্যের ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে মুক্তির দোয়া

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম