Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

কত বছর বয়সে শিশু শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ হয়?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

কত বছর বয়সে শিশু শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ হয়?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জীবনপ্রবাহের এক নদী থেকে অন্য নদীতে পদার্পণের মতো শৈশব পার হয়ে কৈশোরে পদার্পণ মানুষের জীবনের এক বড় পরিবর্তন। ইসলামি শরিয়তে এই পরিবর্তন কেবল শারীরিক রূপান্তর নয়, বরং আল্লাহর বিধান ও দায়িত্ব পালনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শিশুকাল পার হয়ে কখন একজন কিশোর বা কিশোরী শরিয়তের দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহির আওতায় আসে, তা নিয়ে ইসলামের রয়েছে সুনির্দিষ্ট ও সুন্দর নির্দেশনা।

আসুন, অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে জেনে নিই শরিয়তের দৃষ্টিতে একজন শিশুর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মূল লক্ষণ ও বয়সসীমা।

কখন শিশু শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ হয়?

একটি ছেলে বা মেয়ে শৈশব পার হয়ে প্রাপ্তবয়স্কতায় পা রাখল কি না, তা চেনার জন্য ইসলাম কিছু স্পষ্ট আলামত নির্ধারণ করে দিয়েছে। শারীরিক বিকাশের এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলেই তাকে শরিয়তের দৃষ্টিতে বয়ঃপ্রাপ্ত মনে করা হয়।

ছেলেদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ৩টি শারীরিক লক্ষণ

১. স্বপ্নদোষ হওয়া বা যৌন সচেতনতা জাগ্রত হওয়া।

২. অন্য যেকোনো উপায়ে বীর্যপাত ঘটা।

৩. মুখে দাড়ি-গোঁফ গজানো।

মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ৩টি শারীরিক লক্ষণ

১. স্বপ্নদোষ হওয়া।

২. মাসিক বা ঋতুস্রাব (হায়েজ) শুরু হওয়া।

৩. গর্ভধারণ করা।

বিশেষ বয়সসীমা: যদি কোনো ছেলে বা মেয়ের ক্ষেত্রে উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলোর একটিও স্পষ্ট না হয়, তবুও হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বয়স পনেরো (১৫) বছর পূর্ণ হলেই সে শরিয়তের বিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তবয়স্ক বলে গণ্য হবে।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে বয়স ও জীবনের বিধান

ইসলামে শৈশব ও বয়ঃসন্ধির এই সীমারেখা যে কতটা নিখুঁত ও স্পষ্ট, তা নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ এবং পবিত্র কুরআনের আয়াত থেকেই প্রমাণিত।

১. হাদিসের নির্দেশনা: বয়সের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা

সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) তার জীবনের এক সুন্দর অনুভূতির কথা বর্ণনা করে বলেন—

‘ওহুদ যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি; কারণ তখন আমি মাত্র ১৪ বছরের এক বালক ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন আমার বয়স ১৫ বছর পূর্ণ হলো, তখন তিনি আমাকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দান করেন।’

হাদিসের বিখ্যাত বর্ণনাকারী নাফে (রহ.) উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে তিনি খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের কাছে গিয়ে এই বর্ণনাটি শোনালে খলিফা আনন্দিত হয়ে বলেন, ‘হাঁ, এটিই হলো প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আসল সীমানা।’ এরপর তিনি তার রাজ্যের সব গভর্নরদের চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দেন, যাদের বয়স ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের যেন সরকারি খাতায় প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় এবং ভাতা প্রদান করা হয়। (বুখারি ২৬৬৪, মুসলিম ১৮৬৮)

২. কুরআনের নির্দেশনা: বয়ঃসন্ধিতে ঘরের শিষ্টাচার

কৈশোরে পা দেওয়ার পর চালচলন ও পারিবারিক শিষ্টাচারে যে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সে বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন—

وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ

অর্থ: ‘আর তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বয়ঃসন্ধিতে (প্রাপ্তবয়স্কতায়) উপনীত হয়, তখন তারাও যেন (কারো ঘরে প্রবেশের আগে) অনুমতি প্রার্থনা করে, ঠিক যেমন তাদের পূর্ববর্তী বয়স্ক ব্যক্তিরা অনুমতি প্রার্থনা করত।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৫৯)

জীবনের পরম প্রাপ্তি ও সান্ত্বনা

শৈশবের কুঁড়ি থেকে কৈশোরের ফুলে বিকশিত হওয়ার এই পর্যায়টি প্রতিটি মানুষের জীবনে অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ। যারা শৈশব পেরিয়ে জীবনের নতুন ধাপে পা রাখছে, তাদের ওপর শরিয়তের আমল ও নবীজির (সা.) সুন্নাহর অনুশাসন বজায় রাখা অন্যতম দায়িত্ব। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর হুকুম মেনে চলার মাঝেই নিহিত রয়েছে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালের পরম সাফল্য।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম