মামি কি ভাগনি জামাইয়ের সঙ্গে ওমরাহ পালন করতে পারবেন?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত জীবনবিধান। ইবাদত-বন্দেগির প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইসলাম মুসলিমদের নিরাপত্তা, সম্মান ও শরিয়তের পবিত্রতা রক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র বাইতুল্লাহ বা কাবার জিয়ারতে যাওয়া প্রতিটি মুমিনের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা তবে এই পবিত্র সফরের ক্ষেত্রেও মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
প্রশ্ন হলো— মামা না গিয়ে যদি মামি কেবল ভাগনি ও ভাগনির জামাইয়ের সঙ্গে ওমরাহে যেতে চান, তবে মামি কি তাদের সঙ্গী হয়ে ওমরাহ পালন করতে পারবেন? আসুন, শরিয়তের আলোকে সুন্দরভাবে জেনে নিই মাহরাম ছাড়া নারীদের ওমরাহ সফরের মূল বিধান।
ওমরাহ ইবাদতের বিধান ও মাহরামের প্রয়োজনীয়তা
প্রথমেই আমাদের বোঝা প্রয়োজন যে, ওমরাহ হলো একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নত বা নফল ইবাদত। জীবনে কেউ যদি একটি ওমরাহও না করেন, তবে এজন্য আল্লাহর দরবারে তাকে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না এবং এর কারণে তিনি গুনাহগারও হবেন না। পক্ষান্তরে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ।
ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, সফর সমপরিমাণ দূরত্বে (প্রায় ৪৮ মাইল বা ৭৭ কিলোমিটার বা তার বেশি) কোনো নারীর জন্য একাকী কিংবা গায়রে-মাহরাম পুরুষের সঙ্গে ভ্রমণ করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। যেখানে হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদতের ক্ষেত্রেও মাহরাম থাকা আবশ্যক করা হয়েছে, সেখানে ওমরাহের মতো সুন্নত বা নফল ইবাদতের জন্য মাহরাম ছাড়া সফরে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ভাগনি জামাই কি মাহরাম?
শরিয়তের পরিভাষায় যার সঙ্গে বিবাহ বন্ধন চিরতরে হারাম, তিনিই হলেন মাহরাম। এই বিধান অনুযায়ী ভাগনির জামাই কোনো নারীর জন্য মাহরাম নন; তিনি একজন ‘গায়রে-মাহরাম’ বা পরপুরুষ।
সুতরাং, মামা না গিয়ে কেবল ভাগনি ও ভাগনি জামাইয়ের সঙ্গে মামির ওমরাহে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো দীর্ঘ সফরে বের হওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
যদি কোনো নারীর ওমরাহে যাওয়ার মতো উপযুক্ত শরয়ী মাহরাম (যেমন— স্বামী, বাবা, ভাই, ছেলে, আপন ভাতিজা/ভাগনে ইত্যাদি) না পাওয়া যায়, তবে তার ওপর ওমরাহে যাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মাহরামের সুব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শরিয়তের নির্দেশ। মাহরাম না থাকার দরুন ওমরাহে না গেলে কোনো প্রকার গুনাহ তো হবেই না; বরং শরিয়তের সীমারেখা রক্ষা করে নিজ ঘরে অবস্থান করাই আল্লাহর দরবারে অধিক সওয়াব পাওয়ার কারণ হবে।
তাই ওমরাহ পালনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত শরিয়তি মাহরাম না পাওয়া গেলে অধৈর্য না হয়ে ঘরে অবস্থান করাই একজন মুমিন নারীর জন্য প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়। আল্লাহ তাআলা নিয়তের খবর রাখেন; শরিয়তের সম্মান রক্ষা করে ঘরে থাকার এই মানসিকতার জন্যও আল্লাহ তাআলা বান্দাকে পূর্ণ প্রতিদান ও সুসংবাদ দান করবেন।

