‘পৈতৃক সম্পত্তি নেব না’ বললে কি আর নেওয়ার অধিকার থাকে?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পৈতৃক বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে অনেক সময় কেউ আবেগের বশে বলে ফেলেন, ‘আমি এই সম্পত্তি নেব না’ বা ‘আমার কোনো দাবি নেই’। কিন্তু শুধু মুখে এমন কথা বললেই কি উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার আইনগত অধিকার শেষ হয়ে যায়?
বিষয়টি নির্ভর করে বক্তব্যটি কীভাবে, কখন এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে তার ওপর।
সাধারণভাবে, শুধু মৌখিকভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেই সম্পত্তির ওপর আইনগত অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় না। উত্তরাধিকারীর অধিকার সৃষ্টি হওয়ার পর সেটি ত্যাগ, হস্তান্তর বা বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও প্রয়োজনীয় দলিলের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে শুধু পারিবারিক বৈঠকে বা আত্মীয়স্বজনের সামনে ‘আমি সম্পত্তি নেব না’ বলার সঙ্গে বৈধভাবে সম্পত্তির অধিকার ত্যাগ করার বিষয়টি এক নয়। সম্পত্তির ধরন, উত্তরাধিকার আইন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইন এবং কোনো লিখিত দলিল বা বণ্টননামা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করতে হয়।
লিখিত দলিল থাকলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে
কেউ যদি সম্পত্তির নিজের অংশ অন্য উত্তরাধিকারীকে দিয়ে দিতে চান, সে ক্ষেত্রে কেবল মৌখিক ঘোষণা যথেষ্ট নাও হতে পারে। সম্পত্তি হস্তান্তর বা অধিকার ত্যাগের জন্য প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কোনো নিবন্ধিত দলিল, বণ্টননামা, হস্তান্তর দলিল বা আদালতের আদেশ থাকলে তার আইনি প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।
তাই ‘আমি সম্পত্তি নেব না’—এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কী বোঝাতে চেয়েছেন এবং পরে কোনো লিখিত বা নিবন্ধিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
পরে কি সম্পত্তির দাবি করা যায়?
শুধু মুখে সম্পত্তি না নেওয়ার কথা বলার পরেও পরিস্থিতিভেদে উত্তরাধিকারী তার আইনগত অংশ দাবি করতে পারেন। তবে তিনি যদি পরবর্তীতে বৈধভাবে কোনো দলিলের মাধ্যমে নিজের অধিকার ত্যাগ বা হস্তান্তর করে থাকেন, তাহলে সেই দলিলের বৈধতা ও শর্তের ওপর পরবর্তী দাবির সুযোগ নির্ভর করবে।
আবার দীর্ঘদিন কোনো দাবি না করা, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক সমঝোতা, বণ্টন সম্পন্ন হওয়া কিংবা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত থাকলেও বিষয়টি জটিল হতে পারে। ফলে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আইনজীবীর পরামর্শ কেন জরুরি
উত্তরাধিকার ও স্থাবর সম্পত্তির অধিকার ব্যক্তিগত আইন, সম্পত্তির প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট দলিলের ওপর নির্ভর করে। তাই শুধু ‘মুখে বলেছি’ বা ‘কাগজে লিখেছি’—এ দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখার সুযোগ নেই।
কেউ যদি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিতে না চান, কিংবা আগে এমন ঘোষণা দেওয়ার পর এখন নিজের অংশ দাবি করতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র নিয়ে সম্পত্তি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। এতে নিজের অধিকার ও সম্ভাব্য আইনি জটিলতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

-6abce10e2b264.jpg)