বাবা কন্যাকে কি সব সম্পত্তি দান করতে পারবেন?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
এআই ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ একটি সাধারণ চিত্র। অনেক সময় বাবা-মা তাদের কন্যাসন্তানের নিরাপদ করতে জীবদ্দশায় সব সম্পত্তি লিখে দিতে চান। ইসলামি শরিয়াতের আলোকে ওসিয়ত ও দানের ক্ষেত্রে এর বিধান কী?
সম্প্রতি প্রখ্যাত আলেম শায়খ আহমাদুল্লাহর মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
তিনি বলেন, সাধারণত আমাদের সমাজে দেখা যায়, যার ছেলেসন্তান থাকে নেই, তার সম্পত্তি তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলেরা গ্রাস করার চেষ্টা করে থাকেন। অন্যদিকে বাবা চেষ্টা করেন আমি এত কষ্ট করে সম্পত্তি অর্জন করলাম, তা আমার মেয়েরা না পেয়ে অন্যরা পাবে। আল্লাহুর বিধান অনুযায়ী, মেয়েদের ১০০ শতাংশ সম্পদের কতটুকু পাবে।
আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট বলেছেন, কোনো ব্যক্তির দুয়ের অধিক কন্যাসন্তান থাকে তাহলে তার সব সম্পদের তিনের দুই ভাগ এবং এক কন্যাসন্তান থাকলে সম্পদের অর্ধেক পাবে। বাকি সম্পদ তার ওয়ারিশরা পাবেন। (সুরা নিসা)
তিনি বলেন, তখন আমাদের চিন্তা হয়, তাহলে আমার সম্পদ মেয়েদের লিখে দিয়ে যায়। আমি বলি-জীবদ্দশায় বাবা-মা সন্তানদের উপহার বা উপঢৌকন স্বরূপ সম্পদ দিতে পারেন, কোনো অসুবিধা নেই। এমনকি সব সম্পত্তি লিখে দিতে পারেন। সন্তানরা তার মালিকানা হবে। শরিয়াতে দৃষ্টি থেকে এটা দান। দানটি তখনই কার্যকর হবে, যখন সেটি বুঝিয়ে দেবেন।
আহমাদুল্লাহ বলেন, এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে দুটি বিষয়। প্রথম দেওয়ার পর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো কিনা সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আর দ্বিতীয়ত বিষয়টি লক্ষ্য করতে হবে— এটা কেন করছে। যদি এমন হয় আমার মৃত্যুর পর সম্পদ দখল করা কঠিন হবে। এ জন্য জীবদ্দশায় এ উদ্যোগ। এটি স্বাভাবিক হতে পারে। এই দান জায়েজ।
তিনি বলেন, যদি এমন চিন্তা থাকে যে, আমার সম্পদ অন্য কাউকে দিতে চাই না। আল্লাহুর বিধান ভঙ্গ করে সব সম্পদ মেয়েদের দান করে যান। তবে পৃথিবীর সব আলেম একমত যে, এই দান গুনাহ ও না জায়েজ হবে।
