Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে বসে যে আমল করবেন

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৮ এএম

প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে বসে যে আমল করবেন

Advertisement

মাতৃত্বের আগমন প্রতিটি নারীর জীবনে এক অনন্য অনুভূতি ও পরম প্রাপ্তি। তবে এই পথচলার অন্তিম মুহূর্ত তথা সন্তান প্রসবের প্রসবযন্ত্রণা বা লেবার পেইন একজন মায়ের শারীরিক ও মানসিক সহ্যশক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়। এই কঠিন ও নাজুক সময়ে মায়ের মনে সাহস জোগাতে, তার কষ্ট লাঘব করতে এবং আল্লাহর রহমত ও প্রশান্তি বর্ষণ করতে ইসলাম ধর্মে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু সুন্নাহসম্মত আমল ও দোয়া। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর কন্যা হজরত ফাতেমা (রা.)-এর প্রসবের নিকটবর্তী সময়ে বিশেষ কিছু আয়াত ও সুরা পাঠ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

প্রসবের কষ্টে প্রিয় নবীর শেখানো বিশেষ আমল ও দোয়া

প্রসূতি মায়ের পাশে বসে কুরআনের বিশেষ আয়াত ও সুরা পাঠ করা এবং তার শরীরে ফুঁ দেওয়া সুন্নাতসম্মত একটি আমল। প্রিয়নবী (সা.) উম্মে সালামা (রা.) ও জয়নব বিনতে জাহাশকে (রা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তারা যেন ফাতেমা (রা.)-এর কাছে বসে এই সুনির্দিষ্ট সুরা ও আয়াত পাঠের আমলগুলো করেন।

১. আয়াতুল কুরসি: সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত

মায়ের মনে সাহস ও আল্লাহর নিরাপত্তার অনুভূতি আনতে এই মহান আয়াতটি অত্যন্ত কার্যকরী—

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুমু লা তা’খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি মান যাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহ। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।’

অনুবাদ: ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না ও নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছু তারই। কে আছে এমন যে তার কাছে তার অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তাদের সামনে কী আছে ও পেছনে কী আছে সবই তিনি জানেন এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তারা তার জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না। তার কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং সেগুলো সংরক্ষণ করতে তার কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।’

২. সুরা আরাফের ৫৪ নম্বর আয়াত

সৃষ্টিজগতের ওপর আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মায়ের অন্তরে ধৈর্য ধারণের শক্তি জোগাতে এই আয়াতটি পড়া হয়—

إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَلْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণ: ‘ইন্না রাব্বাকুমুল্লাহা ল্লাজি খালাকাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা ফি সিত্তাতি আইয়্যামিন ছুম্মাসতাওয়া আলাল আরশ। ইউগশিল লাইলা ওয়ান নাহারা ইয়াতলুবুহু হাছিছাও ওয়াশ শামসা ওয়াল কামারা ওয়ান নুজুমা মুসাখখারাতিম বিআমরিহ। আলা লাহুল খালকু ওয়াল আমরু। তাবারাকাল্লাহু রাব্বুল আলামিন।’

অনুবাদ: ‘নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি দিনকে রাত দ্বারা ঢেকে দেন, যা একে দ্রুত গতিতে ধাওয়া করে। আর সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্রসমূহ তার হুকুমের অনুগত। জেনে রাখো, সৃষ্টি ও আদেশ তারই। মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি সারা জাহানের রব।’ 

৩. সুরা ফালাক ও সুরা নাস (মুআব্বিজাতান)

প্রসূতি মাকে যেকোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা, মানসিক ভয়ভীতি ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার জন্য পবিত্র এই দুটি সুরা অত্যন্ত কার্যকর—

সুরা ফালাক

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ - مِن شَرِّ مَا خَلَقَ - وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ - وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ - وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

উচ্চারণ: ‘কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক্ব; মিন শাররি মা খালাক্ব; ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইজা ওয়াক্বাব; ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফাসাতি ফিল উক্বাদ; ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইজা হাসাদ।’

অনুবাদ: ‘বলো, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে; তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে, আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।’ 

সুরা নাস

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ - مَلِكِ النَّاسِ - إِلَهِ النَّاسِ - مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ - الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ - مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ

উচ্চারণ: ‘কুল আউজু বিরাব্বিন নাস; মালিকিন্ নাস; ইলাহিন্ নাস। মিন্ শররিল ওয়াস্ওয়াসিল খান্নাস; আল্লাজি ইউওয়াসয়িসু ফি সুদুরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।’

অনুবাদ: ‘বলো, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের মাবুদের কাছে। তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে; জিন হোক বা মানুষ হোক।’

প্রসববেদনার মতো চরম কষ্টদায়ক মুহূর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং সুন্নাহসম্মত উপায়ে কোরআনের এই বরকতময় আয়াত ও সুরাগুলোর মাধ্যমে মায়ের সেবা করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ আমল। এটি যেমন প্রসূতি মায়ের মনে অফুরন্ত সাহস ও মানসিক শক্তি জোগায়, তেমনি আল্লাহর বিশেষ রহমতে সন্তান প্রসবের পথকে সহজ করে তোলে।

সূত্র: আল-আযকার লিন-নববী

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সুন্দর হতে গায়ের রঙ পরিবর্তন করা কি গুনাহ?

সুন্দর হতে গায়ের রঙ পরিবর্তন করা কি গুনাহ?

প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে বসে যে আমল করবেন

প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে বসে যে আমল করবেন

সুদের টাকা দরিদ্র আত্মীয়কে দান করা যাবে কি?

সুদের টাকা দরিদ্র আত্মীয়কে দান করা যাবে কি?

কবর দেওয়ার কত দিন পর একই কবরে দাফন করা যাবে?

কবর দেওয়ার কত দিন পর একই কবরে দাফন করা যাবে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম