সুন্দর হতে গায়ের রঙ পরিবর্তন করা কি গুনাহ?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে অত্যন্ত সুনিপুণ ও সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন— ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে।’ (সুরা ত্বিন: আয়াত ৪)
জন্মগতভাবেই মানুষের শারীরিক গঠন, উচ্চতা ও গায়ের রঙ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কারও বর্ণ শ্যামলা বা কালো, আবার কারও বর্ণ উজ্জ্বল বা ফর্সা—এ সবই মহান স্রষ্টার কুদরত ও নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ। তবে দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময় কালো বা শ্যামলা বর্ণের মানুষের মনে গায়ের রঙ ফর্সা বা উজ্জ্বল করার কৌতূহল জাগে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন জাগে— আল্লাহর দেওয়া গায়ের রঙ পরিবর্তন করার চেষ্টা করা বা ক্রিম ব্যবহার করা কি শরিয়তে নিষিদ্ধ বা গুনাহের কাজ?
গায়ের রঙ পরিবর্তনের বিধান ও শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামি ফিকহ ও স্কলারদের মতে, গায়ের রঙ ফর্সা করার উদ্দেশ্যে নিরাপদ ক্রিম বা প্রসাধনী ব্যবহার করে নিজের বর্ণকে উজ্জ্বল বা শ্যামলা করার চেষ্টা করা সম্পূর্ণ জায়েজ, যদি এর পেছনে কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য না থাকে।
আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি
গায়ের রঙ কালো হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত ফয়সালার ওপর কোনো ধরনের অসন্তুষ্টি, নাখোশ হওয়া বা তার নিয়ামতের ওপর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কঠোরভাবে নাজায়েজ ও গুনাহ। তবে নিজের ভেতর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং জায়েজ পন্থায় সাজগোজ করে সুন্দর বা আকর্ষণীয় হওয়ার চেষ্টা করা শরিয়তে অনুমোদিত।
ক্ষতিকর নয় এমন উপকরণের ব্যবহার
ত্বকের বা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং স্থায়ীভাবে কৃত্রিম পরিবর্তন আনে না— এমন সাধারণ ক্রিম বা মেডিসিন ব্যবহার করে গায়ের রঙ উজ্জ্বল করার চেষ্টা করা সম্পূর্ণ বৈধ।
প্রসাধন ও সাজগোজের ক্ষেত্রে ইসলামের পাঁচটি মৌলিক নীতি
নারীদের বা সাধারণ মানুষের রূপচর্চা এবং প্রসাধন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু সুনির্দিষ্ট মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা মেনে চলা আবশ্যক—
> অনুকরণ পরিহার করা: অমুসলিম কিংবা প্রকাশ্য পাপাচারে লিপ্ত নারীদের ফ্যাশন বা সংস্কৃতিকে অন্ধভাবে অনুকরণ করে সাজসজ্জা করা জায়েজ নয়।
> ক্ষতিকর উপাদান বর্জন: মেকআপ বা প্রসাধনীতে এমন কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকা যাবে না যা ত্বক বা শরীরের স্থায়ী ক্ষতিসাধন করে। কারণ আমাদের শরীর আমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর একটি আমানত।
> মাত্রাতিরিক্ততা ও অপচয় রোধ: অতিরিক্ত রূপচর্চা বা মাত্রাতিরিক্ত সাজসজ্জা পরিহার করতে হবে। এটি একদিকে যেমন ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে, অন্যদিকে তা শরিয়তে অপচয়ের গণ্ডিভুক্ত।
> হালাল ও পবিত্র উপাদানের ব্যবহার: সাধারণ ক্রিম বা লিপস্টিকের মতো প্রসাধনীগুলো হালাল ও পবিত্র উপাদান দিয়ে তৈরি হলে তা ব্যবহার করা বৈধ। তবে এগুলোর উপকরণে কোনো হারাম বা নাপাক কিছু মিশ্রিত আছে বলে নিশ্চিত হলে তা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
> অ্যালকোহল ব্যবহারের বিধান: সাজসামগ্রীতে ব্যবহৃত অ্যালকোহল যদি আঙুর বা কিসমিসের নির্যাস থেকে তৈরি না হয়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী তা ব্যবহার করা জায়েজ। তবে অ্যালকোহল যদি আঙুর বা কিসমিসের তৈরি হয়, তবে তা সামান্য পরিমাণেও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
আল্লাহর দেওয়া গায়ের রঙ নিয়ে অহংকার বা হতাশা প্রকাশ না করে, স্রষ্টার নিখুঁত বিধানের ওপর সন্তুষ্ট থাকা প্রতিটি মুমিনের ইমানি দায়িত্ব। তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং শরীরের কোনো ক্ষতি না করে হালাল উপায়ে প্রসাধন ব্যবহার করে সুন্দর বা উজ্জ্বল দেখানোর চেষ্টা করা ইসলামে পুরোপুরি অনুমোদিত। মূলত বাহ্যিক রূপের চেয়ে অন্তরের তাকওয়া ও পরিচ্ছন্নতাই আল্লাহর দরবারে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করে।
