কালো জাদুর অভিযোগে আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কালো জাদুর মাধ্যমে ক্ষতি করার অভিযোগ উঠলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা যাবে কি না, তা নিয়ে ইসলামি বিধান তুলে ধরা হয়েছে এক প্রশ্নের উত্তরে। এতে বলা হয়েছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামে ওয়াজিব। তবে নিজের নিরাপত্তা ও ক্ষতি থেকে বাঁচার প্রয়োজনে অনিষ্টকারী ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা সীমিত করা বা দূরত্ব বজায় রাখা বৈধ হতে পারে।
এক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ব্ল্যাক ম্যাজিকের (কালো জাদু) মাধ্যমে ক্ষতি করার বিষয়টি বিভিন্নভাবে প্রমাণিত হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার গুনাহ হবে কি না। পাশাপাশি এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষার উপায়ও জানতে চান প্রশ্নকারী।
এর উত্তরে বলা হয়, ইসলামে জাদুটোনা করা কুফরি ও কবিরা গুনাহের কাজ। অন্যদিকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাও নিষিদ্ধ। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের কারণে শারীরিক, মানসিক বা দ্বীনি ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তার সঙ্গে মেলামেশা সীমিত করা বা কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা গুনাহ হবে না।
উত্তরে আরও বলা হয়, অনর্থক স্থায়ী শত্রুতা পোষণ করা উচিত নয়। সম্ভব হলে দূর থেকে দোয়া করা, সালাম দেওয়া বা খোঁজখবর নেওয়া উত্তম।
ক্ষতি থেকে বাঁচতে যেসব পরামর্শ
উত্তরে পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে জাদুটোনার অভিযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কয়েকটি আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি এবং সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়া।
সুরা বাকারা তিলাওয়াত করা বা ঘরে এর তিলাওয়াত চালু রাখা।
নিয়মিত বিশেষ দোয়া পাঠ করা। এর মধ্যে রয়েছে, ‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’ এবং ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামাই, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম’।
অভিজ্ঞ আলেমের মাধ্যমে শরিয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়াহ গ্রহণ করা।
এ ছাড়া উত্তরে সহিহ বুখারির ৬০৭৭ নম্বর হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন রাতের বেশি সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা বৈধ নয়। তাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়।
উত্তরদাতা: মুফতি সিরাজুল ইসলাম, খতিব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া, গাজীপুর।

-6adda54252aec.jpg)