Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

মানসিক চাপ ও হতাশা দূর করতে ইসলামের ৫ নির্দেশনা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

মানসিক চাপ ও হতাশা দূর করতে ইসলামের ৫ নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জীবনের নানা পরিস্থিতিতে মানুষ মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও হতাশার মুখোমুখি হয়। ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সংকট কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক সময় মানুষের মনে অস্থিরতা তৈরি করে। ইসলামে এসব পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর ওপর ভরসা, নিয়মিত ইবাদত ও ইতিবাচক জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনায় মানসিক অস্থিরতা মোকাবিলায় রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা।

১. আল্লাহর স্মরণ ও জিকির করা

ইসলামে মানসিক প্রশান্তি অর্জনে আল্লাহর স্মরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা আর-রাদ, আয়াত ২৮)

নিয়মিত জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া মানুষের মনে সান্ত্বনা জোগাতে পারে। দুশ্চিন্তার সময়ে মনোযোগ দিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।


২. নামাজে মনোযোগী হওয়া

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। নিয়মিত নামাজ মানুষকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সাহায্য করে। পবিত্র কোরআনে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ৪৫)

মানসিক অস্থিরতার সময়ে নামাজ আদায়, দোয়া এবং নিজের সমস্যাগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে অনেকে মানসিক সান্ত্বনা অনুভব করেন।

৩. ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর ওপর ভরসা

জীবনে সব পরিস্থিতি মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ইসলামে বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৩)

তবে ধৈর্য ধারণের অর্থ সমস্যার কাছে অসহায় হয়ে বসে থাকা নয়। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই এর শিক্ষা।

৪. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও হতাশা থেকে দূরে থাকা

ইসলাম মানুষকে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হতে উৎসাহিত করে। পবিত্র কোরআনে সুরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো স্মরণ করা, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং অন্যের উপকার করা মানসিকভাবে ভালো থাকতে সহায়ক হতে পারে।

৫. দোয়া করা ও প্রয়োজনে সাহায্য নেওয়া

দুশ্চিন্তা ও দুঃখের সময়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পাশাপাশি বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়াও জরুরি।

ইসলামে চিকিৎসা গ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হয়নি। তাই দীর্ঘস্থায়ী হতাশা, ঘুমের সমস্যা কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া উচিত।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে যাতায়াত করা কী জায়েজ?

স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে যাতায়াত করা কী জায়েজ?

অপরাধের প্রমাণে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

অপরাধের প্রমাণে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

বিয়ে না করলে কী জান্নাতে যাওয়া যাবে?

বিয়ে না করলে কী জান্নাতে যাওয়া যাবে?

ট্যারা চোখের সার্জারি কি জায়েজ, ইসলামের বিধান কী?

ট্যারা চোখের সার্জারি কি জায়েজ, ইসলামের বিধান কী?

কালো জাদু থেকে রক্ষা পেতে যেসব আমল করবেন

কালো জাদু থেকে রক্ষা পেতে যেসব আমল করবেন

কালো জাদুর অভিযোগে আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে?

কালো জাদুর অভিযোগে আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে?

আরও পড়ুন

মানসিক চাপ ও হতাশা দূর করতে ইসলামের ৫ নির্দেশনা

মানসিক চাপ ও হতাশা দূর করতে ইসলামের ৫ নির্দেশনা

রসিকতার ছলে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যায়, শরিয়তের বিধান কী?

রসিকতার ছলে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যায়, শরিয়তের বিধান কী?

স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে যাতায়াত করা কী জায়েজ?

স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে যাতায়াত করা কী জায়েজ?

অপরাধের প্রমাণে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

অপরাধের প্রমাণে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম