অপরাধের প্রমাণে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৩ এএম
পছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জনস্বার্থে অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কারও অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করা কি ইসলামে বৈধ? কোনো ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁর অজান্তে ভিডিও ধারণ করা যাবে কি? এমনকি পুলিশের শরীরে থাকা ক্যামেরায় অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের বিধানই বা কী?
এসব প্রশ্নের উত্তরে এক ইসলামী প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, কারও অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করা সব পরিস্থিতিতে হারাম নয়। তবে দেশের স্বার্থ কিংবা অপরাধ দমনের কথা বলে যেকোনো ব্যক্তির ভিডিও গোপনে ধারণ ও প্রচার করাও বৈধ হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্ভাব্য ক্ষতি এবং প্রচলিত আইন বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রশ্নোত্তরটিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের।
উত্তরে তিনি বলেছেন, কোনো অপরাধ প্রত্যক্ষভাবে সংঘটিত হওয়ার সময় তার প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য ভিডিও ধারণ করা পরিস্থিতিভেদে জায়েজ হতে পারে। যেমন, কেউ প্রকাশ্যে মারধর, চাঁদাবাজি, ঘুষ গ্রহণ কিংবা অন্য কোনো গুরুতর অপরাধ করলে সেই ঘটনার প্রমাণ হিসেবে ভিডিও ধারণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
তবে ভিডিও ধারণের পদ্ধতি, উদ্দেশ্য এবং পরবর্তী সময়ে তা ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করা এবং কাউকে অপমান বা হেয় করার জন্য সেই ভিডিও প্রচার করা এক বিষয় নয়।
এ বিষয়ে ইসলামে অন্যায় প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরে সহিহ মুসলিমের ৪৯ নম্বর হাদিসের উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসটিতে অন্যায় দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী তা প্রতিহত করার নির্দেশনা রয়েছে।
উত্তরে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি অতীতে অপরাধ করেছেন বা অপরাধের অভিযোগে পরিচিত— শুধু এ কারণে তার প্রতিটি ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করা বৈধ হয়ে যায় না। ভিডিও ধারণের প্রকৃত প্রয়োজন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, আইনগত বিষয় এবং সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করতে হবে।
তিন ধরনের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে
প্রথমত, কেউ সরাসরি অপরাধ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে অপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য ভিডিও ধারণ করা পরিস্থিতিভেদে বৈধ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যক্তি অপরাধের অভিযোগে পরিচিত হলেও বর্তমানে অপরাধ করছেন না। তাঁর অতীত পরিচয়ের কারণে ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছু গোপনে ধারণ করার অনুমতি তৈরি হয় না।
তৃতীয়ত, গ্রেপ্তার বা তদন্তের সময় ভিডিও ধারণ করা হলে ব্যক্তির মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার বিবেচনা করতে হবে। গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কেউ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়।
ইসলামে অন্যের গোপনীয়তা অনুসন্ধানের বিধান
প্রশ্নোত্তরে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান না করার নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে সূরা আল-মায়িদার ৮ নম্বর আয়াতের আলোকে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ বা তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলেও তাঁর প্রতি অন্যায় করা কিংবা মিথ্যা প্রচার চালানো বৈধ নয় বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন থাকলেও তা যেন ব্যক্তিগত প্রতিশোধ, অপমান কিংবা অন্যায়ভাবে কারও ক্ষতি করার মাধ্যম না হয়।
পুলিশের বডি ক্যামেরায় ভিডিও ধারণের বিধান
পুলিশের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওর বিষয়েও প্রশ্নোত্তরটিতে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে জননিরাপত্তা, জবাবদিহি, বিচারপ্রক্রিয়া এবং অপরাধ দমনের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় বিচার ও অপরাধ দমনের মতো বিশেষ প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী ছাড়ের বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সব ধরনের ভিডিও ধারণকে এক নিয়মে ফেলা যায় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্য এবং প্রযোজ্য বিধান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্দেশনা
প্রশ্নোত্তরের শেষে বলা হয়েছে, কোনো বিশেষ ঘটনায় অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ভিডিও ধারণ করা শরিয়তসম্মত কি না, তা নির্ধারণে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

-6ae0313d94b9d.jpg)