Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

আত্মীয়তার সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত কারা, জানুন ইসলামের ব্যাখ্যা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ এএম

আত্মীয়তার সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত কারা, জানুন ইসলামের ব্যাখ্যা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তবে আত্মীয় বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, কোন কোন আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নিষিদ্ধ এবং কার অধিকার সবচেয়ে বেশি— এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফেনী রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী।

তিনি বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক শুধু মা-বাবা, ভাই-বোন কিংবা চাচা-মামার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাবা ও মা— উভয় দিকের নিকট ও দূরবর্তী বংশীয় আত্মীয়রাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাই সবার সঙ্গে সাধ্যানুযায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের প্রতি সদাচরণ করা উচিত। তবে আত্মীয়তার নৈকট্য অনুযায়ী প্রত্যেকের অধিকারের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকারে পার্থক্য রয়েছে।


সম্প্রতি আত্মীয়তার সম্পর্কের পরিধি সম্পর্কে জানতে চেয়ে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, আত্মীয়দের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ঠিক কাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না, তা স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন।

জবাবে মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী বলেন, কোরআন-হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলনীতি হলো, সব আত্মীয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। তবে নিকটাত্মীয়দের অধিকার দূরবর্তী আত্মীয়দের তুলনায় বেশি।

মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আত্মীয়তার পরিধিতে মানুষের বংশীয় সম্পর্কের ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন— উভয় দিকের আত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত।

ঊর্ধ্বতন বংশীয় আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছেন মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং তাদের ওপরের প্রজন্মের পূর্বপুরুষেরা। অন্যদিকে অধস্তন বংশীয় আত্মীয়দের মধ্যে রয়েছেন ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং তাদের পরবর্তী বংশধরেরা।

এ ছাড়া ভাই-বোন, তাদের সন্তান-সন্ততি, বাবা-মায়ের ভাই-বোন— অর্থাৎ চাচা, ফুফু, মামা ও খালা এবং তাদের সন্তানদের সঙ্গেও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এসব নিকটাত্মীয়ের পাশাপাশি অন্যান্য দূরবর্তী বংশীয় আত্মীয়ও এ পরিধির মধ্যে পড়েন।

অর্থাৎ, আত্মীয়তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু একই বাড়িতে থাকা কিংবা নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ হওয়াকে বিবেচনা করা যাবে না। বরং বংশীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে নিকট ও দূর— উভয় ধরনের আত্মীয়ের সঙ্গে সাধ্যানুযায়ী যোগাযোগ ও সদাচরণ বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

নিকটাত্মীয়ের অধিকার বেশি

সব আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশনা থাকলেও প্রত্যেকের অধিকার সমান পর্যায়ের নয় বলে উল্লেখ করেন এই মুফতি।

তিনি বলেন, মা-বাবার অধিকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। একইভাবে নিকটাত্মীয়দের অধিকার দূরবর্তী আত্মীয়দের তুলনায় বেশি। তাই আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়দের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সঙ্গে সদাচরণ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার অর্থ শুধু পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নয়; বরং নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা, অসুস্থতায় পাশে থাকা এবং সম্পর্কের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তা মিটিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়াও এর অংশ।

তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা নিয়ে সতর্কতা

আত্মীয়তার সম্পর্কের পাশাপাশি অন্য মুসলিমের সঙ্গেও অকারণে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা উচিত নয় বলে উল্লেখ করেন শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত রাগ, অভিমান কিংবা পার্থিব কারণে কোনো মুসলিমের সঙ্গে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বন্ধ রাখা নিষিদ্ধ। কারও সঙ্গে মনোমালিন্য হলে সালাম দেওয়া, খোঁজখবর নেওয়া এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস উল্লেখ করেন। হাদিসটিতে বলা হয়েছে, দুই ব্যক্তি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকলে তাদের মধ্যে যে আগে সালাম দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়, সে-ই উত্তম।

তবে ধর্মীয় কারণে কাউকে বর্জন করা কিংবা ক্ষতি থেকে বাঁচতে দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি ব্যক্তিগত রাগ-অভিমানের কারণে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো নয়। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করতে হবে।

কখন আত্মীয়ের সঙ্গে দূরত্ব রাখা যাবে?

মুফতি শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সাধারণ নির্দেশনা থাকলেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে সম্পর্ক সীমিত করার সুযোগ রয়েছে।

কোনো আত্মীয় প্রকাশ্যে গুনাহ, ফাসেকি বা বিদআতে লিপ্ত থাকলে এবং তাকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে দূরত্ব বজায় রাখলে, পরিস্থিতি ও কল্যাণ বিবেচনায় তা বৈধ হতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন এবং ধর্মীয় কল্যাণ; ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা অহংকার নয়।

একইভাবে কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে মেলামেশা অব্যাহত রাখলে নিজের দ্বীন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কিংবা গুরুতর পার্থিব ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিলে তার কাছ থেকে দূরে থাকার অবকাশ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিজের ধর্মীয় জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তবে এসব পরিস্থিতিতে দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাধারণ মতবিরোধ, সামান্য রাগ কিংবা পারিবারিক মনোমালিন্যকে অজুহাত করে আত্মীয়তার সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা উচিত নয়।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

রাগের মাথায় ‘আমি মুসলমান না’ বললে কি নতুন করে কালেমা পড়তে হবে?

রাগের মাথায় ‘আমি মুসলমান না’ বললে কি নতুন করে কালেমা পড়তে হবে?

স্ত্রীর পর্দায় বাধা দিলে স্বামীর করণীয় কী?

স্ত্রীর পর্দায় বাধা দিলে স্বামীর করণীয় কী?

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

আরও পড়ুন

রাগের মাথায় ‘আমি মুসলমান না’ বললে কি নতুন করে কালেমা পড়তে হবে?

রাগের মাথায় ‘আমি মুসলমান না’ বললে কি নতুন করে কালেমা পড়তে হবে?

আত্মীয়তার সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত কারা, জানুন ইসলামের ব্যাখ্যা

আত্মীয়তার সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত কারা, জানুন ইসলামের ব্যাখ্যা

স্ত্রীর পর্দায় বাধা দিলে স্বামীর করণীয় কী?

স্ত্রীর পর্দায় বাধা দিলে স্বামীর করণীয় কী?

নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম