বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে ইসলামের ৩ নির্দেশনা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিয়ে মানবজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এটি শুধু দুটি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন নয়, বরং নতুন একটি পরিবার গঠন এবং জীবনের দীর্ঘ পথ একসঙ্গে চলার অঙ্গীকার। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। বাহ্যিক সৌন্দর্য, অর্থসম্পদ কিংবা সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি একজন মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ, চরিত্র ও মানসিকতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তার শিক্ষা ও হাদিসের আলোকে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া যায়।
১. ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধার্মিকতা
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) ধার্মিকতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সৌন্দর্য, সম্পদ ও বংশমর্যাদা সাময়িক আকর্ষণ তৈরি করলেও ধর্মীয় মূল্যবোধ একজন মানুষের জীবনযাপন, দায়িত্ববোধ ও আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘চারটি বিষয় দেখে কোনো নারীকে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার ধার্মিকতা। সুতরাং তুমি ধার্মিক নারীকে লাভ করে বিজয়ী হও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৯০)
এই হাদিসে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্যান্য গুণের পাশাপাশি ধার্মিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একইভাবে পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আল্লাহভীরুতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
২. উত্তম চরিত্র
শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করলেই একজন মানুষ উত্তম জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেন না। তার আচার-আচরণ, দায়িত্ববোধ, ধৈর্য, সততা ও অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পাত্রের চরিত্র ও আচরণ যাচাই করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কাছে এমন কোনো পাত্রের বিয়ের প্রস্তাব আসে, যার ধার্মিকতা ও চরিত্রের ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্ট, তখন তার সঙ্গে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দাও। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে বড় ধরনের ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৪)
৩. পারস্পরিক সমতা
সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য পাত্র-পাত্রী উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। ইসলামী ফিকহের পরিভাষায় একে ‘কুফু’ বা সমতা বলা হয়।
এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক অবস্থান, পেশা, শিক্ষা ও মানসিকতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। পাত্র-পাত্রীর চিন্তাভাবনা ও জীবনযাপনের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে দাম্পত্য জীবনে বোঝাপড়ার সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে হানাফি ফিকহে বিয়ের ক্ষেত্রে কুফু বা সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, মানসিক সামঞ্জস্য ও পারিবারিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
