স্ত্রীর পায়ে চুমু খাওয়া কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক মমতার। এই সম্পর্কে ভালোবাসা প্রকাশের নানা উপায় রয়েছে। এর মধ্যে স্ত্রীর পায়ে চুমু খাওয়াও একটি। তবে প্রশ্ন হলো, ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীর পায়ে চুমু খাওয়া কি জায়েজ?
ইসলামি আইনজ্ঞদের একাধিক ফতোয়া অনুযায়ী, স্বামী ভালোবাসা, সম্মান কিংবা দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতার অংশ হিসেবে স্ত্রীর পায়ে চুমু খেতে পারেন। এতে শরিয়তের নিষেধাজ্ঞা নেই।
ইসলামওয়েবের ২০১১ সালের ২ মে প্রকাশিত এক ফতোয়ায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বামী আনন্দ বা ভালো লাগার জন্য স্ত্রীর পায়ে চুমু খেতে পারেন। এ কাজ নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। একই ওয়েবসাইটের ২০১৮ সালের আরেকটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের পায়ে সম্মান, ভালোবাসা কিংবা ঘনিষ্ঠতার উদ্দেশ্যে চুমু দিলে তাতে দোষের কিছু
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দারুল ইফতা বার্মিংহামের ফতোয়ায় বলা হয়েছে, স্বামী স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে বৈধভাবে উপকৃত হতে পারেন। সে হিসেবে স্ত্রীর পায়ের আঙুলে চুমু খাওয়াও জায়েজ। এ বিষয়ে মুফতি মুহাম্মদ তসির মিয়া ফতোয়া দিয়েছেন।
ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের একটি ফতোয়াতেও স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের পায়ে চুমু খাওয়াকে বৈধ বলা হয়েছে। তবে পায়ের আঙুল মুখে নেওয়া ভালো নয় বলে মত দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ফতোয়া বিভাগ।
ইসলামি ফতোয়াগুলোতে পায়ে চুমু দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপটের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসা, সম্মান কিংবা দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতার প্রকাশ হিসেবে এ কাজকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া বা আল্লাহর জন্য নির্ধারিত উপাসনার কোনো আচরণ মানুষের প্রতি প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
ইসলামওয়েবের আরেকটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার অংশ হিসেবে পায়ে চুমু দেওয়ায় বাধা নেই। তবে কোনো কাজের কারণে শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তা এড়িয়ে চলা উচিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ভালোবাসা ও দয়ার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। সুরা আর-রুমের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা একে অপরের কাছে প্রশান্তি খুঁজে পায়।
অন্যদিকে সুরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
