Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পাঠালে সবাই কি পূর্ণ সওয়াব পাবে?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পাঠালে সবাই কি পূর্ণ সওয়াব পাবে?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জীবিত অবস্থায় যেমন সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করা জরুরি, তেমনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত ও পরকালের কল্যাণের জন্য নেক আমল করে সওয়াব পৌঁছে দেওয়া বা ‘ঈসালে সওয়াব’ করা অত্যন্ত বরকতময় একটি আমল। অনেকেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা বা নফল ইবাদত করে বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানীসহ অসংখ্য মৃত ব্যক্তির নামে সওয়াব বখশে দেন। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে— একসঙ্গে একাধিক মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব ঈসাল করলে প্রত্যেকে কি পূর্ণ সওয়াব পাবেন, নাকি সেই সওয়াব ভাগ হয়ে সবার মাঝে বণ্টিত হবে?

একাধিক মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর বিধান: আলেমদের অভিমত

কুরআন তিলাওয়াত কিংবা অন্য কোনো নফল ইবাদত করে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো জায়েজ ও প্রমাণিত বিষয়। তবে একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব ঈসাল করা হলে সবাইকে পূর্ণ সওয়াব দেওয়া হবে, নাকি সবার মাঝে ভাগ করে সওয়াব দেওয়া হবে—এ বিষয়ে ফকিহ ও মুজতাহিদ আলেমদের প্রধানত দুটি মত রয়েছে—

প্রথম মত

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ও হাম্মাদ মাক্কী (রহ.)-সহ কতিপয় আলেমের মতে, একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব পৌঁছানো হলে তা সকলের মাঝে বণ্টন বা ভাগ করে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় মত

হজরত ইবনে হাজার মাক্কি (রহ.) ও আল্লামা ইবনে আবেদীন শামি (রহ.)-সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতে, একাধিক মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সওয়াব বখশালে প্রত্যেকেই পৃথকভাবে পূর্ণ সওয়াব লাভ করেন।

ফিকাহ ও হাদিসের গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় মতটিই অধিক অগ্রগণ্য। কারণ, মহান আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ, রহমত ও দয়ার ভাণ্ডার অফুরন্ত; তাই একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব দান করলে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকের আমলনামায় পূর্ণ সওয়াব দান করতে পারেন, যা তাঁর শানের সঙ্গে অধিক সংগতিপূর্ণ।

প্রখ্যাত হানাফি ফকিহ আল্লামা ইবনে আবেদীন (রহ.) উল্লেখ করেন যে, ইবনে হাজার মাক্কি (রহ.)-কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল— কেউ যদি কবরবাসীদের জন্য সুরা ফাতিহা পাঠ করে, তবে কি সেই সওয়াব তাদের সবার মাঝে বণ্টন হয়ে যাবে, নাকি প্রত্যেকের নিকট পূর্ণ সওয়াব পৌঁছাবে?

উত্তরে তিনি বলেছিলেন, অনেক ফকিহ দ্বিতীয় মতের (সকলে সমান পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার) পক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন এবং মহান আল্লাহর অবারিত করুণা ও অনুগ্রহের শানের সঙ্গে এটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ঈসালে সওয়াবের সর্বোত্তম পদ্ধতি ও সুন্নাত তরিকা

সওয়াব ঈসাল করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কতিপয় ব্যক্তির পাশাপাশি সকল মুমিন নর-নারীর নিয়তে সওয়াব বখশে দেওয়া হলো সুন্নাহসম্মত ও সর্বোত্তম পদ্ধতি। কারণ, এতে আমলকারীর নিজস্ব সওয়াব বিন্দুমাত্রও হ্রাস পায় না, অথচ অগণিত মানুষের কাছে তা পৌঁছে যায়।

নবী করিম (সা.) নফল ইবাদত ও কোরবানি করে তার সওয়াব সকল উম্মতের জন্য ঈসাল করেছেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে এ বিষয়ে একটি চমৎকার হাদিস বর্ণিত হয়েছে—

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ... ثُمَّ أَخَذَهُ فَضَحَّى بِهِ، ثُمَّ قَالَ: «بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ، وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ»

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) (কোরবানির জন্য) একটি শিংওয়ালা ভেড়া আনতে বললেন... এরপর তা জবাই করার সময় বললেন, ‘আল্লাহর নামে (কুরবানি করছি)। হে আল্লাহ! আপনি এটি কবুল করুন মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে।’ (মুসলিম ১৯৬৭)

এই হাদিসের আলোকে আল্লামা ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেছেন, নফল সদকা বা ইবাদতকারীর জন্য উত্তম হলো, নির্দিষ্ট মৃত আত্মীয়দের পাশাপাশি সকল মুমিন নর-নারীর জন্য নিয়তে সওয়াব ঈসাল করা। কেননা, এই সওয়াব সবার নিকট পৌঁছে যায় এবং এতে আমলকারীর নিজের সওয়াব থেকে সামান্যতমও হ্রাস পায় না। এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মূল দৃষ্টিভঙ্গি।

সারকথা হলো, আপনি যখন কোনো নফল ইবাদত বা এক খতম কুরআন তিলাওয়াত করে একাধিক মৃত ব্যক্তির নামে সওয়াব ঈসাল করেন, তখন ইনশাআল্লাহ তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর অসীম রহমতে পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন। সওয়াব বখশানোর সময় নির্দিষ্ট বাবা-মা, দাদা-দাদী ও আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি সমস্ত মুমিন মুমিনাদের জন্যও নিয়্যত করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন এবং আমাদের মৃত প্রিয়জনদের নাজাতের উসিলা বানিয়ে দিন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কঠিন পরিস্থিতিতে মন শক্ত রাখার কুরআনি দোয়া

কঠিন পরিস্থিতিতে মন শক্ত রাখার কুরআনি দোয়া

মনের অজান্তে যেসব গুনাহে জড়িয়ে পড়ি আমরা: বাঁচার উপায় কী?

মনের অজান্তে যেসব গুনাহে জড়িয়ে পড়ি আমরা: বাঁচার উপায় কী?

জুমার খুতবা চলাকালে কথা বলা ও অন্যান্য ভুলের শরয়ি বিধান

জুমার খুতবা চলাকালে কথা বলা ও অন্যান্য ভুলের শরয়ি বিধান

জুমার নামাজের সূচনা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

জুমার নামাজের সূচনা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

জুমা আদায়কারীর জন্য নবীজির (সা.) সুসংবাদ

জুমা আদায়কারীর জন্য নবীজির (সা.) সুসংবাদ

সোসাইটির মসজিদে বহিরাগতদের জুমায় বাধা, নামাজ কি সহিহ হবে?

সোসাইটির মসজিদে বহিরাগতদের জুমায় বাধা, নামাজ কি সহিহ হবে?

আরও পড়ুন

কঠিন পরিস্থিতিতে মন শক্ত রাখার কুরআনি দোয়া

কঠিন পরিস্থিতিতে মন শক্ত রাখার কুরআনি দোয়া

একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পাঠালে সবাই কি পূর্ণ সওয়াব পাবে?

একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে সওয়াব পাঠালে সবাই কি পূর্ণ সওয়াব পাবে?

মনের অজান্তে যেসব গুনাহে জড়িয়ে পড়ি আমরা: বাঁচার উপায় কী?

মনের অজান্তে যেসব গুনাহে জড়িয়ে পড়ি আমরা: বাঁচার উপায় কী?

জুমার খুতবা চলাকালে কথা বলা ও অন্যান্য ভুলের শরয়ি বিধান

জুমার খুতবা চলাকালে কথা বলা ও অন্যান্য ভুলের শরয়ি বিধান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম