জুমার খুতবা চলাকালে কথা বলা ও অন্যান্য ভুলের শরয়ি বিধান
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় একটি দিন। এই দিনে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজের পূর্বে খুতবা শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ওয়াজিব ইবাদত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক সময় অসচেতনতার কারণে খুতবার আদব বা শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়। খুতবা চলাকালীন সময়ে কথা বলা, গল্প করা, এমনকি উচ্চস্বরে দরুদ পাঠ বা তাকবির বলার মতো ভুলও বহু মসজিদে পরিলক্ষিত হয়। অথচ শরিয়তের দৃষ্টিতে খুতবার সময় পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কথা বলা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের শরয়ী বিধান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—
খুতবার সময় কথা বলা ও অন্যান্য ভুলের শরয়ি বিধান
সাধারণত বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়, ইমাম সাহেব জুমার খুতবা দেওয়ার সময় অনেক মুসল্লি নিজেদের মধ্যে গল্প-সল্প বা কথাবার্তায় লিপ্ত হন। আবার অনেকে খুতবার সময় উচ্চস্বরে দরুদ পাঠ করেন। এছাড়া কিছু এলাকায় ঈদের নামাজের খুতবায় ইমাম সাহেব যখন তাকবীরে তাশরীক বলেন, তখন অনেক মুসল্লি একসঙ্গে উচ্চস্বরে ইমামের সাথে তাকবীর বলতে থাকেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এসব বিষয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও আমল বরবাদকারী কাজ।
জুমা ও ঈদের খুতবা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে শ্রবণ করা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কোনো ধরনের কথা বলা, কোনো কাজ করা বা তাসবিহ-তাহলিল পড়াও জায়েজ নয়। এ প্রসঙ্গে হাদিসের কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে।
হাদিসের আলোকেও ফকিহগণের নির্দেশনা
খুতবা চলাকালীন নিরবতা বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে নানা বর্ণনা এসেছে—
অনর্থক কথা বলার পরিণতি
হজরত আবু যার (রা.) বলেন, ‘একদিন নবী করীম (সা.) খুতবায় সুরা বারাআত পাঠ করলেন। তখন আমি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি চেহারা মলিন করলেন এবং চুপ থাকলেন। এভাবে পরপর তিনবার প্রশ্ন করার পরও তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে বারবার প্রশ্ন করার পরও কোনো উত্তর দিলেন না কেন? তখন উবাই (রা.) বললেন, (খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে) আপনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। আপনার অনর্থক কথা বলা হয়েছে। তখন আমি নবী করীম (সা.)-এর কাছে গিয়ে উবাই (রা.)-এর এ কথা জানালাম। জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, উবাই ঠিকই বলেছে।’ (ইবনে খুযাইমা ১৮০৭)
পাশের জনকে কথা বলতে নিষেধ করাও নিষেধ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন—
مَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخطُبُ فَقَدْ لَغَا
‘তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে চুপ করতেও বল, তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে (অর্থাৎ জুমার পুণ্য নষ্ট করলে)।’ (মুসলিম ৮৫১)
হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী (রহ.)-এর অভিমত
হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী (রহ.) বলেন, ‘ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামাজ পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।
এ সকল হাদিস ও আসারের আলোকে ফকিহগণ খুতবা চলাকালে মুক্তাদির জন্য যেকোনো ধরনের কথা বলা, ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলা এবং তাসবিহ পড়া বা আওয়াজ করে দরুদ ও তাকবির পাঠ করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। খুতবা চলাকালে মুক্তাদির কাজ কেবল পূর্ণ মনোযোগ ও নীরবতার সঙ্গে তা শোনা।
খুতবা হলো জুমার নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আল্লাহর জিকির ও নসিহত শোনার মাধ্যম। সামান্য অসচেতনতা বা না জানার কারণে আমাদের জুমার সওয়াব বরবাদ হতে পারে। তাই খুতবা শুরু হওয়ার পর থেকে ইমামের সালাম ফেরানো পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখা আমাদের সকলের ইমানি দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে জুমার খুতবার আদব রক্ষা করার এবং সব ধরনের ভুল ও অনর্থক কথা থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।

