শুধু পেট ঠান্ডা রাখা নয়, আরও ৭ গুণ রয়েছে শসায়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
প্রাকৃতিকভাবে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে শসা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছর গরম পড়েছে একটু আগভাগেই। আর বৈশাখি এ গরমে আপনার প্রাণ ওষ্ঠাগত। বেলা বাড়লেই তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাপিয়ে যায়। সময়ের আগেই তাপপ্রবাহে নাজেহাল দশা।
আগুনে রোদ যেন আপনার শরীর থেকে পানি শুষে নিচ্ছে। ঘরে ঘরে পেটের সমস্যা, ডিহাইড্রেশন ভোগাচ্ছে। রাস্তাঘাটে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। হিটস্ট্রোকের আতঙ্কে দুপুরের পর রাস্তায় বেরোনোর খুব একটা সাহস দেখান না অনেকেই। এমন সময়ে হালকা সহচপাচ্য খাবার ও বেশি করে পানি পান করারই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা। এমন ফল বা সবজি খেতে বলা হচ্ছে, যাতে পানির ভাগ বেশি থাকে। তাই স্বভাবতই গরমে শসার চাহিদাই প্রথমে রয়েছে।
গরমে আপনার শরীর ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখতে শসা একটি দুর্দান্ত উপাদান। এতে প্রায় ৯৫-৯৬ শতাংশ পানি, ফাইবার ও পুষ্টিগুণ থাকে, যা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ত্বক সতেজ রাখে এবং হজমশক্তি বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখলে আপনার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়ে কর্মক্ষমতা বজায় থাকে। কারণ বিশেষ করে গরমে শসা পানিশূন্যতা দূর করে থাকে। উচ্চ পানির পরিমাণের কারণে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
আর প্রাকৃতিকভাবে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে শসা। এ ছাড়া হজম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে পেট ভালো রাখা— সবকিছুতেই যেন মধ্যমণি হয়ে রয়েছে শসা। এতে ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং ক্যালোরি কম হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর সালাদ থেকে ডিটক্স পানীয়— সবকিছুতেই তার অবাধ বিচরণ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, পেট ঠান্ডা রাখতে শসা কতটা উপকারী—
পেট ঠান্ডা রাখার কথা এলেই শসার নামই বলেন পুষ্টিবিদরা। কারণ এতে পানির পরিমাণ প্রায় ৯৫-৯৬ শতাংশ। লো-ক্যালোরি শসা ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর। শরীরে পুষ্টি উপাদানগুলোর ঘাটতি মেটাতে এর নামই প্রথমে আসে। বিশেষ করে গরমের দিনে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে পারে শসা। হজমেও সাহায্য করে। তবে শসার কাজ কি কেবল পেট ঠান্ডা রাখা? এর আরও অসংখ্য গুণ রয়েছে, যা অবাক করার মতোই।
হার্ট ভালো রাখে শসা। কারন শসায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ফ্ল্যাভনয়েড ও লিগন্যান আছে, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। এর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শসা নিয়মিত খেলে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সমস্যায় ভুগতে হবে না।
ত্বকের যত্নেও শসা ভীষণ কার্যকরী। একটি শসা টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। সঙ্গে কুচিয়ে নিন অল্প কিছুটা ধনেপাতা। বার এই শসা ও ধনেপাতা একসঙ্গে মিশিয়ে ঘুরিয়ে নিন মিক্সিতে। তবে মিক্সিতে দেওয়ার সময়ে পরিমাণমতো পানি দিতে ভুলবেন না। তৈরি হয়ে এলে তরলটি একটি গ্লাসে নিয়ে তাতে অল্প বিট লবণ ছড়িয়ে খেতে পারেন। এ ভাবে শসা খেলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
এছাড়া হাড় মজবুত রাখতে শসা খান। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন ডি বা ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবারের কথাই আগে মাথায় আসে। কিন্তু শসা এমন একটি ফল যাতে প্রচুর পরিমাণে থাকে ভিটামিন কে। এই ভিটামিন ক্যালশিয়াম শোষণে বড় ভূমিকা নেয়। প্রতিদিনের ডায়েটে ভিটামিন কে থাকলে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকিও কমবে।
আবার শসার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম। সে ক্ষেত্রে শসা খেলে রক্তে শর্করা একদমই বাড়বে না। তাই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য শসা খুবই উপকারী। শসার সালাদ বা সন্ধ্যার জলখাবারে ভাজাভুজির বদলে শসা দিয়ে মুড়ি মাখা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকবে।
হজমের জন্য শসা তো ভালোই। এক কাপ শসাকুচিতে ১৬ ক্যালোরি থাকে। আর থাকে ফাইবার, যা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। শসা খেলে অনেক ক্ষণ পেট ভর্তিও থাকে।
এছাড়া প্রদাহ কমাতে পারে শসা। কারণ শসা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর শসায় থাকে বিটা-ক্যারোটিন, ট্যানিন, পলিফেনল ও ফ্ল্যাভনয়েড, যা শরীরে যে কোনো রকম প্রদাহ কমাতে পারে।

