Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

শুধু পানি নয়, ডিহাইড্রেশন রোধে দরকার ইলেকট্রোলাইট

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

শুধু পানি নয়, ডিহাইড্রেশন রোধে দরকার ইলেকট্রোলাইট

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘ সময় রোদে কাজ, অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া কিংবা বমির কারণে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। অনেকেই মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে শুধু বেশি বেশি পানি পান করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শরীর থেকে শুধু পানি নয়, প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও বেরিয়ে যায়, যা সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলোকে বলা হয় ইলেকট্রোলাইট। এগুলো শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর কার্যক্রম সচল রাখা, পেশির স্বাভাবিক সংকোচন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পানিশূন্যতা দূর করতে শুধু পানি নয়, হারিয়ে যাওয়া ইলেকট্রোলাইটও পূরণ করা প্রয়োজন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দিলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, পেশিতে টান, দুর্বলতা, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতাও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় বা অসুস্থতার কারণে যখন শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে যায়, তখন ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত শরীরকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

১. ডাবের পানি: প্রকৃতির প্রাকৃতিক রিহাইড্রেশন ড্রিংক

ডাবের পানি দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।

ডাবের পানির উপকারিতা—

  • পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
  • শরীরের তরল ভারসাম্য রক্ষা করে।
  • স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রম সচল রাখে।
  • হালকা থেকে মাঝারি পানিশূন্যতা দূর করতে কার্যকর।

তবে গুরুতর ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডাবের পানির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

২. ওআরএস: পানিশূন্যতা মোকাবিলার বৈজ্ঞানিক সমাধান

ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে সৃষ্ট পানিশূন্যতা দূর করতে ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) সবচেয়ে কার্যকর সমাধানগুলোর একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) এটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকে।

ওআরএসের বিশেষ সুবিধা—

  • দ্রুত শরীরে তরল সরবরাহ করে।
  • সোডিয়াম ও অন্যান্য ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে।
  • শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য নিরাপদ।
  • শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

সঠিক মাত্রায় প্রস্তুতকৃত ওআরএস ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

৩. লেবু-লবণ পানি: সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া পানীয়

অল্প কিছু উপকরণ দিয়েই ঘরে তৈরি করা যায় একটি কার্যকর রিহাইড্রেশন ড্রিংক। এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস, সামান্য লবণ এবং অল্প চিনি বা মধু মিশিয়ে তৈরি করা যায় এই পানীয়।

কেন উপকারী?

  • শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে।
  • ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
  • গরমে সতেজ অনুভূতি এনে দেয়।

তবে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৪. ঘোল: শীতলতা ও পুষ্টির চমৎকার সমন্বয়

গরমের দিনে ঘোল শুধু প্রশান্তিই দেয় না, এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখে। দই বা টক দুধ থেকে তৈরি এই পানীয় দীর্ঘদিন ধরে উপমহাদেশে জনপ্রিয়।

ঘোলের উপকারিতা—

  • পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
  • প্রোবায়োটিক উপাদান হজমশক্তি উন্নত করে।
  • লবণ মেশালে সোডিয়ামের চাহিদাও পূরণ হয়।
  • গরমে ক্লান্তি দূর করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখে।

৫. তরমুজের রস: সুস্বাদু ও সতেজ সমাধান

তরমুজে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে। সেই সঙ্গে এতে রয়েছে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান।

তরমুজের রসের উপকারিতা—

  • শরীরের পানির ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে।
  • ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • গরমে তাৎক্ষণিক প্রশান্তি ও সতেজতা দেয়।
  • প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
  • স্বাদ বাড়াতে এতে সামান্য পুদিনাপাতা বা অল্প লবণ যোগ করা যেতে পারে।

কোন পরিস্থিতিতে কোন পানীয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ গরমে ঘাম ঝরা বা ক্লান্তি দূর করতে ডাবের পানি, ঘোল কিংবা লেবু-লবণ পানি যথেষ্ট কার্যকর। তবে ডায়রিয়া, বমি বা গুরুতর পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে ওআরএসই সবচেয়ে উপযোগী ও নিরাপদ বিকল্প।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা—

  • অতিরিক্ত লবণ বা চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা মারাত্মক পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • বাজারে পাওয়া সব স্পোর্টস ড্রিংক প্রয়োজনীয় নয়; অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ পানি ও ওআরএসই যথেষ্ট।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের ফলের রস ও মিষ্টি পানীয় পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

শরীরকে সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত রাখতে শুধু পর্যাপ্ত পানি পান করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, অসুস্থতা কিংবা কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের ফলে হারিয়ে যাওয়া তরল ও খনিজ উপাদান পূরণে ডাবের পানি, ওআরএস, ঘোল, লেবু-লবণ পানি এবং তরমুজের রসের মতো পানীয় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সচেতনভাবে সঠিক পানীয় নির্বাচন এবং নিয়মিত শরীরের চাহিদা অনুযায়ী তরল গ্রহণের মাধ্যমে পানিশূন্যতা এড়ানোর পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সিডিসি, মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক এবং পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

সন্তান ভুল করলে যা করবেন

সন্তান ভুল করলে যা করবেন

যে কারণে কমতে পারে পুরুষের শুক্রাণুর মান, যা বাড়ায় বন্ধ্যত্বের ঝুঁকিও

যে কারণে কমতে পারে পুরুষের শুক্রাণুর মান, যা বাড়ায় বন্ধ্যত্বের ঝুঁকিও

ওভারিয়ান সিস্ট কেন হয়, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন নারীরা

ওভারিয়ান সিস্ট কেন হয়, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন নারীরা

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময় চিনি খেলে বাড়তে পারে অন্ত্রের ক্ষতি: গবেষণা

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময় চিনি খেলে বাড়তে পারে অন্ত্রের ক্ষতি: গবেষণা

বার্ধক্যের গতি কমাতে যে অভ্যাসের ওপর জোর বিজ্ঞানীদের

গবেষণা বার্ধক্যের গতি কমাতে যে অভ্যাসের ওপর জোর বিজ্ঞানীদের

বিয়ের আগে বর-কনের যে পরীক্ষা বাঁচিয়ে দেবে ভবিষ্যৎ পরিবার

বিয়ের আগে বর-কনের যে পরীক্ষা বাঁচিয়ে দেবে ভবিষ্যৎ পরিবার

আরও পড়ুন

সন্তান ভুল করলে যা করবেন

সন্তান ভুল করলে যা করবেন

মুখের ছবি থেকেই ক্যানসার রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা জানাবে এআই!

মুখের ছবি থেকেই ক্যানসার রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা জানাবে এআই!

যে কারণে কমতে পারে পুরুষের শুক্রাণুর মান, যা বাড়ায় বন্ধ্যত্বের ঝুঁকিও

যে কারণে কমতে পারে পুরুষের শুক্রাণুর মান, যা বাড়ায় বন্ধ্যত্বের ঝুঁকিও

সুখী দাম্পত্যের জন্য স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

সুখী দাম্পত্যের জন্য স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম