জ্বরের সঙ্গে যেসব লক্ষণ দেখা দিলে হতে পারে হৃদযন্ত্রের জটিলতা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৌসুমি ফ্লু, কোভিড-১৯ বা অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণে সাধারণত জ্বর, শরীরব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস শুধু শ্বাসতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি হৃদযন্ত্রেও প্রদাহ সৃষ্টি করে গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ভারতের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রিপেন গুপ্তার মতে, ভাইরাসের কারণে মায়োকার্ডাইটিস (হৃদপেশির প্রদাহ) বা পেরিকার্ডাইটিস (হৃদযন্ত্রের বাইরের আবরণের প্রদাহ) হতে পারে। তিনি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেতের কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, বুকে তীব্র ব্যথা। বিশেষ করে শুয়ে থাকলে ব্যথা বাড়ে এবং সামনের দিকে ঝুঁকলেই কিছুটা কমে—এটি হৃদযন্ত্রে প্রদাহের লক্ষণ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট। হাঁটা, বাথরুমে যাওয়া বা বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় কিংবা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
তৃতীয়ত, জ্বর কমে যাওয়ার পরও হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা অনিয়মিতভাবে স্পন্দিত হওয়া। এটি হৃদযন্ত্রের ছন্দের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
চতুর্থত, পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় হঠাৎ ফোলাভাব এবং এক-দুই দিনের মধ্যে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া। এটি শরীরে তরল জমে যাওয়ার লক্ষণ, যা দুর্বল হৃদযন্ত্রের কারণে হতে পারে।
পঞ্চমত, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার সময় ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে আসার কথা। কিন্তু হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে তা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯–এর পর হৃদপেশির প্রদাহের ঝুঁকি ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় বেশি। তাই ভাইরাল সংক্রমণের পর এসব লক্ষণ দেখা দিলে তা সাধারণ অসুস্থতা ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি
