ওমেগা-৩ খেলেই কি বাড়বে স্মৃতিশক্তি?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে বা ভবিষ্যতে আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে অনেকেই নিয়মিত ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট খান। ফিশ অয়েল বা অ্যালজি ওয়েলের ক্যাপসুলকে অনেকেই মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য সহজ সমাধান হিসেবেও মনে করেন। কিন্তু নতুন এক গবেষণা সেই ধারণায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও শুধু সাপ্লিমেন্টট গ্রহণের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি, জ্ঞানীয় সক্ষমতা বা মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশের ক্ষয় রোধে উল্লেখযোগ্য উন্নতি নাও হতে পারে।
গবেষণাটিতে ৫৫ থেকে ৮০ বছর বয়সি ৩৬৫ জন মানুষ অংশ নেন। তাদের কারও ডিমেনশিয়া ছিল না, তবে প্রত্যেকের শরীরে ওমেগা-৩ মাত্রা কম ছিল এবং ডিমেনশিয়া অন্তত একটি ঝুঁকি-যেমন স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টোরল বা শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ছিল।
অংশগ্রহণকারীদের একটি দলকে ২৪ মাসে প্রতিদিন উচ্চমাত্রার অ্যালজিভিত্তিক ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। অন্য দলকে দেওয়া হয় প্লাসিবো। গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের রক্ত পরীক্ষা, মস্তিষ্কের এমআরআই এবং জ্ঞানীয় সক্ষমতার পরীক্ষা করা হয়।
ফলাফল ছিল বেশ হতাশাজনক। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের শরীরে ওমেগা-৩ এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। এমনকি মস্তিষ্কের চারপাশে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডেও ডিএইচ-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ সাপ্লিমেন্ট শরীরে শোষিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছেছিল। কিন্তু এরপরও স্মৃতিশক্তি বা জ্ঞানীয় সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি দেখা যায়নি। এমনকি স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিপোক্যাম্পাসের আয়তনেও উল্লেযোগ্যভাবে পরিবর্তন পাওয়া যায়নি।
গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার নিউরোলজির অধ্যাপক ড. হুসেইন ইয়াসিন বলেন, সরাসরি কার্যকর উপায় হিসেবে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কাজ করে না। তার মতে, শুধু শরীরে ওমেগা-৩ এর মাত্রা বাড়ালেই মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না।
তাহলে ওমেগা-৩ কি প্রয়োজন নেই?
বিষয়টি এমন নয়। ওমেগা-৩ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। মস্তিষ্ক, চোখ, হৃদযন্ত্র ও কোষের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় এর ভূমিকা রয়েছে।
ওমেগা-৩ এর গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধরন হলো ইপিএ ও ডিএইচএ। চর্বিযুক্ত মাছ থেকে এগুলো পাওয়া যায়। স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকেরেল ও হেরিংয়ের মতো মাছ এর ভালো উৎস। অন্যদিকে আখরোট, চিয়া সিড ও তিসি থেকে পাওয়া যায় এএলএ নামের আরেক ধরনের ওমেগা-৩।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার থেকে ওমেগা-৩ গ্রহণের সঙ্গে শুধু ক্যাপসুল খাওয়ার বিষয় এক করে দেখা ঠিক নয়। কারণ, মাছ বা বাদামের মতো সম্পূর্ণ খাবারে ওমেগা- ৩ এর পাশাপাশি আরও পুষ্টি উপাদান থাকে।
ড. ইয়াসিনের মতে, মাছ খেলে শরীরে শুধু একটি নির্দিষ্ট ফ্যাটি অ্যাসিড পায় না, মাছের অন্যান্য পুষ্টিগুণও পাওয়া যায়। তবে কীভাবে মাছ রান্না করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ক্যাপসুলে ভরসা করলে চলবে?
গবেষকদের বক্তব্যের মূল বিষয়টি এখানেই। মস্তিষ্ক ভালো রাখতে শুধু একটি সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ভিদভিত্তিক ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যতালিকায় চর্বিযুক্ত মাছ, বাদাম ও বীজ রাখাও উপকারী হতে পারে।
আলজেইমার প্রতিরোধবিষয়ক গবেষক ড. রিচার্ড আইজ্যাকসনের মতে, মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সামগ্রিক জীবনযাপন ভালো না থাকলে শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করে বড় ধরনের সুফল আশা করা ঠিক নয়।
বিশেষ করে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করে না, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, অতিরিক্ত ওজন বা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন- তাদের ক্ষেত্রে শুধু ওমেগা-৩ ক্যাপসুল গ্রহণে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের বড় পরিবর্তন আশা করা কঠিন।
আখরোট, চিয়া নাকি মাছ?
খাবার থেকে ওমেগা-৩ পাওয়ার বেশ কিছু সহজ উৎস রয়েছে। চর্বিযুক্ত মাছ ইপিএ ও ডিএইচএ-এর ভালো উৎস। অন্যদিকে চিয়া সিড ও তিসি এবং আখরোট থেকে পাওয়া যায় এএলএ।
বিশেষ করে আখরোট ওমেগা-৩ এর পাশাপশি ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ভিটামিন বি৬-এ মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানও রয়েছে।
ওমেগা-৩ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে নতুন গবেষণা দেখিয়েছে , শরীরে এর মাত্রা বাড়লেই স্মৃতিশক্তি বা জ্ঞানীয় ক্ষমতা বাড়বে- এমন নিশ্চয়তা নেই।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
