মেঘলা দিনেও কেন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
মেঘলা আবহাওয়াতেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনেকের ধারণা, সূর্য দেখা না গেলে বা আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে সানস্ক্রিন লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ, মেঘলা আবহাওয়াতেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে এবং ধীরে ধীরে নানা ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মেঘ সূর্যের তাপ ও আলো কিছুটা কমিয়ে দিলেও অতিবেগুনি রশ্মির একটি বড় অংশ সহজেই মেঘ ভেদ করে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোলাজেনের ক্ষতি করে, যার ফলে অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া এবং পিগমেন্টেশনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বর্ষাকালে অনেকেই মনে করেন বাইরে কম যাওয়া হয়, তাই সানস্ক্রিনের দরকার নেই। বাস্তবে জানালার কাচ দিয়ে আসা সূর্যের আলো কিংবা গাড়িতে চলাচলের সময়ও ত্বক ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে আসে। এসব ক্ষতি একদিনে চোখে না পড়লেও দীর্ঘ সময় ধরে ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজার বা মেকআপ ব্যবহার করলেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পণ্যে থাকা এসপিএফ সাধারণত পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয়। তাই আলাদাভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ত্বকের সুরক্ষার জন্য অন্তত SPF 30 এবং Broad Spectrum সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানো উচিত। বর্ষাকালে বৃষ্টি ও অতিরিক্ত ঘামের কারণে ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট (পানিরোধী) সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সুরক্ষা আরও ভালো থাকে।
নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারে শুধু রোদে পোড়া থেকে নয়, দীর্ঘমেয়াদে কালচে দাগ, অসম ত্বকের রং, অকাল বার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই আবহাওয়া যেমনই হোক, প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিনে সানস্ক্রিনকে রাখা উচিত অপরিহার্য একটি ধাপ।

