গর্ভাবস্থায় ডিম খেলে সমস্যা নেই তো?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে ডিম খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে অনেক গর্ভবতী নারী দ্বিধায় থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম যদি ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করা হয়, তাহলে এটি গর্ভাবস্থায় নিরাপদ এবং পুষ্টিকর একটি খাবার।
ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম উৎস। পাশাপাশি এতে রয়েছে মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। তবে কাঁচা বা আধসিদ্ধ ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়।
কারেন্ট ডেভেলপমেন্টস ইন নিউট্রিশন সাময়িকীতে ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ১ হাজার ১০০-এর বেশি মা ও নবজাতকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকরা গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার সঙ্গে শিশুর জন্মের ওজন, গর্ভকাল এবং জন্মের সময় শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি—এসব বিষয়ের সম্পর্ক মূল্যায়ন করেন। এ গবেষণায় পুরো ডিম, ডিমের সাদা অংশ এবং বিভিন্নভাবে রান্না করা ডিমের প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, পুরো ডিম বা চর্বিযুক্ত ডিম বেশি খাওয়া মায়েদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন বয়সের তুলনায় কম ওজনের (এসজিএ) শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে একই ধরনের উপকারিতা শুধু ডিমের সাদা অংশ বা ডিমের বিকল্প খাবারের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। গবেষকদের ধারণা, ডিমের প্রোটিনের পাশাপাশি এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বিও ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ গর্ভবতী নারী সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারেন। তবে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। একজনের শারীরিক অবস্থা, ওজন, দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদ প্রতিদিন এক থেকে দুটি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।
তাই গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে দ্বিধা থাকলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।

