Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা শিশুর কথা বলার ওপর যেসব প্রভাব ফেলে

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা শিশুর কথা বলার ওপর যেসব প্রভাব ফেলে

Advertisement

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে স্মার্টফোন, ট্যাব, টেলিভিশন ও ল্যাপটপের ব্যবহার শিশুদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানকে ব্যস্ত রাখা, খাওয়ানো বা শান্ত করার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের সাহায্য নেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের ভাষা শেখা ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন টাইম বলতে শিশু প্রতিদিন মোবাইল ফোন, ট্যাব, টেলিভিশন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে যে সময় ব্যয় করে, সেটিকেই বোঝায়। বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে ভাষা শেখার জন্য সরাসরি কথোপকথন ও পারস্পরিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ভিডিও বা কার্টুন দেখে ভাষা শেখার সুযোগ সীমিত, কারণ সেখানে শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না।

মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুই থেকে তিন বছর বয়সি কোনো শিশু যদি প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে থাকে, তাহলে একই বয়সি কম স্ক্রিন ব্যবহারকারী শিশুদের তুলনায় তার ভাষা বিকাশে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

অভিভাবকদের আচরণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাবা-মা যদি অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সন্তানের সঙ্গে তাদের কথোপকথন ও মানসিক যোগাযোগ কমে যায়। এর ফলে শিশুর ভাষা শেখার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।

এ ছাড়া ২০১৯ ও ২০২১ সালে প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারের অভিভাবকরা মানসিক চাপ বা বিষণ্নতায় ভোগেন, তাদের সন্তানদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ক্রিন ব্যবহারের সময়ের পাশাপাশি সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে শিক্ষামূলক ভিডিও, ছড়া বা গান দেখে এবং একই সঙ্গে কথা বলে, গান গায়, নড়াচড়া করে বা শেখার কার্যক্রমে অংশ নেয়, তাহলে ভাষা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি কমে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় শিশুকে একা স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখা, খাওয়ানোর সময় বা ঘুমানোর আগে নিয়মিত স্ক্রিন দেখানো এবং তার সঙ্গে পর্যাপ্ত কথা না বললে ভাষা ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্ক্রিনকে শিশুর একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম না বানিয়ে অভিভাবকদেরও শেখার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া উচিত। স্ক্রিনে যা দেখানো হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করা, প্রশ্ন করা, বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝানো এবং শিশুর সঙ্গে একসঙ্গে ছড়া, গান বা অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিলে শেখার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়।

তারা আরও বলেন, প্রতিদিন কিছু সময় পুরো পরিবারকে স্ক্রিনমুক্ত রাখা, খাবারের সময় মোবাইল বা টেলিভিশন ব্যবহার না করা, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিভাইস বন্ধ রাখা এবং বড়দেরও সন্তানের সামনে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার সীমিত করা উচিত। কারণ শিশুর ভাষা ও সামাজিক বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ফের চালু হচ্ছে এনইআইআর, অবৈধ ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ভবিষ্যত কী?

ফের চালু হচ্ছে এনইআইআর, অবৈধ ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ভবিষ্যত কী?

মোবাইল ফোনে ব্রেন ক্যানসারের ঝুঁকি? — ৬৩ গবেষণায় যা মিলল

মোবাইল ফোনে ব্রেন ক্যানসারের ঝুঁকি? — ৬৩ গবেষণায় যা মিলল

ফের চালু হচ্ছে এনইআইআর, নেটওয়ার্ক সচল হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে

ফের চালু হচ্ছে এনইআইআর, নেটওয়ার্ক সচল হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে

চলন্ত বাসে অসুস্থ চালক, দৌড়ে এসে ২০ শিশুর প্রাণ বাঁচালেন যুবক

চলন্ত বাসে অসুস্থ চালক, দৌড়ে এসে ২০ শিশুর প্রাণ বাঁচালেন যুবক

ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি সময়ের আগে শিশুর জন্ম হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে?

ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি সময়ের আগে শিশুর জন্ম হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে?

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মোবাইল খোয়ালেন বিএনপির ৯ নেতাকর্মী

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মোবাইল খোয়ালেন বিএনপির ৯ নেতাকর্মী

আরও পড়ুন

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ডালিম নাকি আপেল, কোনটি বেশি উপকারী?

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ডালিম নাকি আপেল, কোনটি বেশি উপকারী?

অল্প বয়সেই চুল পেকে গেলে যা খাবেন

অল্প বয়সেই চুল পেকে গেলে যা খাবেন

সর্দি কাশি নাক বন্ধ, যা করবেন

সর্দি কাশি নাক বন্ধ, যা করবেন

শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করার উপায়

শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করার উপায়

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম