Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

১০ হাজার কদম হাঁটার দরকার নেই, দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন তথ্য প্রকাশ

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

১০ হাজার কদম হাঁটার দরকার নেই, দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন তথ্য প্রকাশ

Advertisement

দৈনন্দিন সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু অর্জনে প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটাকে দীর্ঘদিন ধরে এক অলিখিত সামাজিক বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত নিয়ম বলে গণ্য করা হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, এই নির্দিষ্ট সংখ্যাটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ভিত্তিহীন এবং তুলনামূলক কম হাঁটাহাঁটিতেও একই ধরনের বা তারচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসুবিধা পাওয়া সম্ভব।

যেখান থেকে ‘১০ হাজার কদম’-এর উৎপত্তি

গবেষণাগার থেকে নয়, বরং ১৯৬৪ সালের টোকিও অলিম্পিকের পর জাপানের একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ থেকে এই ধারণার জন্ম। জাপানি কোম্পানিগুলো যখন খেয়াল করে যে দেশটির মানুষের শারীরিক সক্রিয়তা কমছে, তখন তারা ‘মানপো-কেই’ নামের একটি পেডোমিটার বা কদম মাপার যন্ত্র বাজারে আনে। জাপানি ভাষায় যার অর্থ ‘১০ হাজার কদম মিটার’। সংখ্যাটি সহজ, আকর্ষণীয় এবং মুখস্থ রাখার সুবিধার জন্য নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ এটি শুধুই একটি পণ্যের প্রচারমূলক স্লোগান ছিল, কোনো বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা নয়। 

গবেষণা কী বলছে? 

১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত ৫৭টি গবেষণার এক সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দিনে গড়ে ৭,০০০ কদম হাঁটাই স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ উপকারিতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট। 

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক ৭,০০০ কদম হাঁটলে:

  • অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমে ৪৭ শতাংশ 
  • হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে ২৫ শতাংশ 
  • টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে ১৪ শতাংশ 
  • ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমে ৩৮ শতাংশ 
  • বিষণ্নতার ঝুঁকি কমে ২২ শতাংশ এবং পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি কমে ২৮ শতাংশ 

গবেষকরা জানান, মাত্র দুই থেকে চার হাজার কদম হাঁটা শুরু করলেই শরীরের উন্নতি ঘটতে থাকে। চার থেকে সাত হাজার কদমে তা আরও বৃদ্ধি পায় এবং এর পর থেকে উপকারের হার স্থিমিত অবস্থায় পৌঁছায়। নিষ্ক্রিয় অবস্থা থেকে সামান্য সক্রিয় হওয়ার মাধ্যমেই স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।

কদমের সংখ্যা নাকি হাঁটার তীব্রতা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কদম গণনার চেয়ে হাঁটার গতি বা তীব্রতার গুরুত্ব বেশি। দ্রুতগতিতে হাঁটলে (যেখানে কথা বলা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে) কম সময়েই বেশি শারীরিক উপকার পাওয়া যায়। 

স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৭৫ মিনিটের তীব্র ব্যায়াম এবং ১৫০ মিনিটের মাঝারি ব্যায়ামের স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রায় সমান। তাই কেবল কদমের সংখ্যার ওপর মনোযোগ না দিয়ে সপ্তাহে কত মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া বেশি কার্যকর। 

পেশির শক্তির জন্য শুধু হাঁটাই কি যথেষ্ট?

হাঁটা মূলত হৃদযন্ত্র ও শ্বসনতন্ত্রের উন্নতি ঘটায়। কিন্তু এটি পেশির শক্তি বা ভর বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত নয়। বয়স বাড়ার পরও স্বাবলম্বী থাকতে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া এড়াতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশি জোরদার করার ব্যায়াম (যেমন: ওয়েট লিফটিং বা ভারোত্তোলন) করা প্রয়োজন। 

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যায়াম বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হান্টার বেনেটের মতে, দৈনিক গড়ে সাত হাজার কদম হাঁটার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশির ব্যায়াম করতে পারলে সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব। 

সূত্র: জাপান টুডে 

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ওজন কমাতে স্ন্যাক্স কি বাদ দিতেই হবে?

ওজন কমাতে স্ন্যাক্স কি বাদ দিতেই হবে?

কফি পান করলে কি বিষণ্নতা কমে? যা জানাল গবেষণা

কফি পান করলে কি বিষণ্নতা কমে? যা জানাল গবেষণা

গলায় কফ জমে অস্বস্তি, পিঁয়াজের পানিতে স্বস্তি

গলায় কফ জমে অস্বস্তি, পিঁয়াজের পানিতে স্বস্তি

রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস

রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম