কফি পান করলে কি বিষণ্নতা কমে? যা জানাল গবেষণা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানুষ কী ধরনের পানীয় পান করেন এবং কত পরিমাণে পান করেন, তার সঙ্গে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক থাকতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি কফি পান করেন তাদের মধ্যে বিষণ্নতার উপসর্গ কম রয়েছে।
অন্যদিকে, চিনিযুক্ত ও কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার করা পানীয় বেশি পান করার সঙ্গে তুলনামূলক খারাপ মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক দেখা গেছে।
আগস্ট মাসে চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ডিপ্রেশন অ্যান্ড অ্যানজাইটিতে প্রকাশিত একটি বিস্তৃত পর্যালোচনায় ২২টি দেশের ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিয়ে ৫৯টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যারা বেশি পরিমাণে কফি পান করেন, তাদের মধ্যে অন্য ব্যক্তিদের তুলনায় বিষণ্নতার উপসর্গ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১৩ শতাংশ কম। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফল থেকে এমনটা প্রমাণ হয় না যে কফি পান করলে বিষণ্নতা কমে।
অন্যদিকে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যারা অতিরিক্ত চিনি জাতীয় পানীয় পান করেন তাদের মস্তিষ্কে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
চিনিযুক্ত পানীয় কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে
পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেনিফার পেলিয়ান বলেন, অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি গ্রহণ শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন বাড়াতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো প্রভাবিত হতে পারে, যেগুলো উদ্বেগ ও মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক কর্টিসল ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চিনির নিরাপদ পরিমাণ কত?
গবেষণার একটি বড় অংশই পর্যবেক্ষণমূলক। তাই বেশি চিনি খাওয়া সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ কি না, নাকি যারা আগে থেকেই মানসিক চাপ বা উদ্বেগে ভুগছেন তারা তুলনামূলক বেশি চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ করেন—তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কোমল পানীয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৫ গ্রামের বেশি চিনি গ্রহণকারী তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ বেশি ছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন ২৫ গ্রাম বা তার কম চিনি গ্রহণ করলেই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তা নিশ্চিতভাবে নিরাপদ।
কফি ও বিষণ্নতার মধ্যে কী সম্পর্ক?
আগের গবেষণাগুলোতেও কফি পান এবং বিষণ্নতার কম হারের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, যেসব নারী প্রতিদিন চার কাপ কফি পান করতেন, তাদের বিষণ্নতার ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাফেইন মস্তিষ্কের এমন কিছু রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, যেগুলো সজাগতা, মনোযোগ ও শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি অ্যাডেনোসিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটারের প্রভাবকে বাধাগ্রস্ত করে। অ্যাডেনোসিন ঘুমঘুম ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। ক্যাফেইন ডোপামিন ও সেরোটোনিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্যাফেইনের পরিমাণ কি গুরুত্বপূর্ণ?
গবেষণা বলছে, কত পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আগের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ করতেন, তাদের বিষণ্নতার ঝুঁকি কম ছিল—যারা এর চেয়ে কম ক্যাফেইন গ্রহণ করতেন তাদের তুলনায়। তবে আরও বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে এই সম্ভাব্য উপকার আর দেখা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সজাগতা, মনোযোগ ও শক্তি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
এর অর্থ হলো, ক্যাফেইনের সম্ভাব্য প্রভাব শুধু এটি গ্রহণ করা হচ্ছে কি না তার ওপর নির্ভর করে না; বরং কতটা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং কোন পানীয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সামা টিভি
