Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

পুরোনো কোনো গন্ধেই কেন ফিরে আসে শৈশবের স্মৃতি? স্নায়ুবিজ্ঞান যা বলছে

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

পুরোনো কোনো গন্ধেই কেন ফিরে আসে শৈশবের স্মৃতি? স্নায়ুবিজ্ঞান যা বলছে

প্রতীকী ছবি।

Advertisement

ক্লোরিন মেশানো পানির গন্ধ নাকে আসতেই হঠাৎ মনে পড়ে যায় সুইমিংপুলে কাটানো শৈশবের গরমের দিনগুলো। কিংবা হয়তো বাবা-মায়ের ব্যবহার করা কোনো পুরোনো পারফিউমের ঘ্রাণ—আমাদের নাক যেন খুব সহজেই স্মৃতির অতল থেকে নস্টালজিয়া খুঁজে আনে। 

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির কগনিটিভ নিউরোবায়োলজি ল্যাবরেটরির পরিচালক হাওয়ার্ড আইশেনবাম বলেন, একবার এক লিফটে ওঠার পর সামনে থাকা এক নারীর চুল নাকে লাগতেই শৈশবের পারফিউম ‘শালিমার’-এর ঘ্রাণ পান তিনি। অথচ এই ঘ্রাণ তিনি বছরের পর বছর পাননি। তখন মুহূর্তেই তার মনে হয়েছিল, তিনি যেন হাইস্কুলের দিনগুলোতে ফিরে গেছেন। 

আমাদের শরীরের প্রতিটি ইন্দ্রিয়ই স্মৃতির সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত, তবে ঘ্রাণশক্তি বিশেষভাবে আবেগঘন স্মৃতির জন্ম দেয়। কিন্তু কেন এমন হয়? 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো সুবাস নাকে প্রবেশের পর তা ক্রেনিয়াল নার্ভের মাধ্যমে ঘ্রাণ বা ওলফ্যাক্টরি বাল্ব-এ পৌঁছায়, যা মস্তিষ্ককে গন্ধ প্রক্রিয়াজাত করতে সাহায্য করে। এই ওলফ্যাক্টরি বাল্বটি মস্তিষ্কের আবেগীয় কেন্দ্র লিম্বিক সিস্টেমের একটি অংশ। লিম্বিক সিস্টেমের অংশ হওয়ায় এটি খুব সহজেই মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, যা আবেগঘন স্মৃতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আইশেনবাম ব্যাখ্যা করেন, ঘ্রাণশক্তি অ্যামিগডালাতে সরাসরি শক্তিশালী প্রভাব ফেলে, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে যে স্মৃতিগুলো জেগে ওঠে, সেগুলোর সঙ্গে গভীর ও চমৎকার আবেগ জড়িয়ে থাকে।

ঘ্রাণ এবং অ্যামিগডালার এই ঘনিষ্ট সম্পর্কই গন্ধের মাধ্যমে নস্টালজিয়া তৈরি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। 

এ সম্পর্কে অস্টিনের টেক্সাস টেস্ট অ্যান্ড স্মেল ডিজঅর্ডার ক্লিনিক এবং আমেরিকান একাডেমি অব নিউরোলজির সদস্য ড. রন ডিভেরে বলেন, ‘আমরা সাধারণত আবেগঘন স্মৃতিগুলো খুব একটা সচেতনভাবে স্মরণ করি না।’ মানুষ যখন সচেতনভাবে কোনো কিছু মনে করার চেষ্টা করে, তখন তারা অনুভূতির চেয়ে বিশদ বিবরণের ওপর বেশি জোর দেয়। 

ড. ডিভেরে আরও বলেন, ‘আপনার নাকে কোনো সুবাস আসার পর হয়তো আপনি গন্ধটি ঠিক চিনতে পারছেন না, তবুও আপনি সেটিকে কোনো না কোনো স্মৃতির সঙ্গে ঠিক মিলিয়ে নিচ্ছেন। যেমন—আপনার জীবনে প্রথম আপেল পাইয়ের সুবাস পাওয়ার অভিজ্ঞতাটি হতে পারে আপনার দাদির বাড়িতে।’ 

এর পেছনে ওলফ্যাক্টরি সিস্টেম এবং হিপোক্যাম্পাসের মধ্যকার সম্পর্কও কাজ করে, যা স্মৃতিশক্তি গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। 

যদিও ঘ্রাণতন্ত্র মস্তিষ্কের আবেগ ও স্মৃতির কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে, তবে এটি মস্তিষ্কের অপেক্ষাকৃত উন্নত চিন্তন অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয় না। 

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি ও হেলথ সাইকোলজির বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং এএএন-এর সদস্য ড. কেন হেইলম্যান বলেন, ‘গন্ধ মানুষের মস্তিষ্কের আবেগ এবং স্মৃতির অংশে গিয়ে প্রভাব ফেলে, অথচ মুখের কথা বা শব্দ মস্তিষ্কের চিন্তন অংশে প্রবেশ করে।’ 

এই কারণেই ঘ্রাণ বা গন্ধের মাধ্যমে জেগে ওঠা স্মৃতিগুলো বাস্তবসম্মত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের চেয়ে আবেগঘন ও নস্টালজিক বেশি মনে হয়। 

ড. হেইলম্যানের মতে, ‘আপনি যখন কোনো কিছুর ঘ্রাণ পান, তখন নিজের আবেগগুলোকেই মূলত স্মরণ করেন—কথাটি পুরোপুরি সত্যি।’ 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম