পিরিয়ডের সময় মাথা ঘোরে? জানুন কীভাবে সামলাবেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাসিক বা পিরিয়ডের সময় অনেক নারীই মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা কিংবা ঝিমঝিম করার মতো সমস্যায় ভোগেন। এ সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের পাশাপাশি অতিরিক্ত রক্তপাত, পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণেও মাথা ঘুরতে পারে।
পিরিয়ডের সময় মাথা ঘোরার সম্ভাব্য কারণ
অতিরিক্ত মাসিকের কারণে শরীর থেকে বেশি রক্ত বেরিয়ে গেলে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হয়ে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা ও মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, বমি বা ডায়রিয়ার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলেও মাথা ঝিমঝিম করতে পারে। এতে শরীরে রক্তের পরিমাণও কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া, মাসিকের ব্যথা ও ক্র্যাম্পের কারণে ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া এবং খাবার বাদ দেওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়াও মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ঘাম, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা এমনকি অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
কীভাবে সামলাবেন
পিরিয়ডের সময় মাথা ঘোরা কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে না থেকে অল্প অল্প করে নিয়মিত খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
২০০৯ সালে Brazilian Journal of Otorhinolaryngology-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ওঠানামা এবং মাথা ঘোরা ও ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। গবেষণায় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের পরিবর্তন অন্তঃকর্ণের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্তঃকর্ণ শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পিরিয়ডের আগে শরীরে তরল ও সোডিয়াম জমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ভারসাম্যজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই এ সময় অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কম খাওয়া উপকারী হতে পারে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণ কমানোও পানিশূন্যতা এড়াতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত ঘুম এবং হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ড, যেমন হাঁটা, শরীরের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।
মাথা ঘুরতে শুরু করলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়া বা শুয়ে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নেওয়াও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে মাথা ঘোরা যদি বারবার হয় বা তীব্র আকার ধারণ করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে মাথা ঘোলার সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
পিরিয়ডের সময় প্যাড বা ট্যাম্পন অস্বাভাবিক দ্রুত ভিজে যাওয়া, বড় আকারের রক্তের জমাট বের হওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত রক্তপাত হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে রক্তশূন্যতা বা অতিরিক্ত রক্তপাতের অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা দরকার।

