হার্ট অ্যাটাকের এই ৭ লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ হলো হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। এতে হার্টের মাংসপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এ অবস্থা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো জানা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হিমেল সাহা গণমাধ্যমে বলেন, হার্ট অ্যাটাকের কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শুধু আগে থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরই হার্ট অ্যাটাক হবে—এমন নয়; আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার হার্ট ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিভেদে হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে প্রচলিত বুকব্যথা নাও থাকতে পারে। কারও একটি উপসর্গ দেখা দিতে পারে, আবার কারও একাধিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমনকি কোনো সতর্কতামূলক উপসর্গ ছাড়াও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যাকে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ বলা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, নিচের যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
১. বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা। ডা. হিমেল সাহার ভাষায়, এটিকে ‘সেন্ট্রাল চেস্ট পেইন’ বলা হয়। এ ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে এবং বুকের ওপর প্রচণ্ড চাপ বা ভারী কিছু চেপে বসার মতো অনুভূতি হতে পারে।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বুকের তীব্র ব্যথার সঙ্গে প্রচণ্ড অস্বস্তি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
২. হাত ও ঘাড়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া
হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা শুধু বুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এটি বাম হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঘাড়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে গলায় কেউ চেপে ধরেছে বা কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতিও হতে পারে।
বিশেষ করে বুকের ব্যথার সঙ্গে বাম হাত বা ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
৩. পেটে তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা কখনো কখনো পেটের দিকেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এ ব্যথাকে অনেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে ভুল করতে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে বিষয়টি বোঝা আরও কঠিন হতে পারে।
ডা. হিমেল সাহা বলেন, হার্ট অ্যাটাকের কারণে পেটে ব্যথা হলে সেটি তীব্র হতে পারে এবং এর সঙ্গে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়াও থাকতে পারে।
৪. কাশি ও শ্বাসকষ্ট
হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে গেলে হার্ট ফেইলরের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ সময় ফুসফুসে তরল জমে শ্বাসকষ্ট ও কাশি হতে পারে।
চিকিৎসা দেরিতে শুরু হলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা কম অনুভূত হতে পারে। ফলে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক হলেও তারা বিষয়টি বুঝতে নাও পারেন।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডেভিড নিউবির মতে, বাম হাতে ব্যথা নিচের দিকে নামার সঙ্গে গলায় চেপে ধরার মতো অনুভূতি থাকলে তা হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, গলা ধরে আসা বা গিলতে ব্যথার সঙ্গেও হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক থাকতে পারে।
এ ছাড়া চোয়াল ও পিঠে ব্যথাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।
৫. অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ঘাম
শরীরচর্চা বা প্রচণ্ড গরমে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বুকব্যথার সঙ্গে হঠাৎ প্রচণ্ড ঘাম হলে সেটি হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেত হতে পারে।
ডা. হিমেল সাহা বলেন, হার্ট অ্যাটাকের সময় রোগীর শরীরে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং বুকব্যথার সঙ্গে অস্বাভাবিক মাত্রায় ঘাম হতে পারে। একই ব্যক্তির মধ্যে একাধিক উপসর্গও একসঙ্গে দেখা দিতে পারে।
৬. মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়াও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।
ডা. হিমেল সাহা বলেন, হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের ব্যথা কখনো এতটাই তীব্র হতে পারে যে আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
৭. বমি বমি ভাব ও বমি
বমি বমি ভাব বা বমি হলেই যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তা নয়। তবে এর সঙ্গে যদি বুকের তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বমি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং বুকব্যথা একসঙ্গে দেখা দিলে তা হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।
দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
ডা. হিমেল সাহা বলেন, হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে ও রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে ওষুধ দিতে পারেন। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি কমানো এবং জীবন বাঁচানোর সুযোগ বাড়ে।
