|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার সময় পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে যায়। ঠিক সেই সময় কিছুটা গম্ভীর গলায় একজন বললেন— তাকে অবিলম্বে টয়লেটে যেতে হবে।
অথবা বাড়িতে মা কাজে ব্যস্ত। একটু সাহায্য পেতে চাইলেন; তখন মাকে শুনতে হলো- ‘আমার প্রবল জোরে... পেয়েছে। টয়লেটে যেতে হবে।’ আসলে এখানে টয়লেটে যাওয়া উদ্দেশ্যে নয়, বরং সেই সময়ে দেখতে থাকা সিরিয়াল অথবা নাটকে মনোযোগ নষ্ট যাতে না হয়; সেজন্যই মাকে এমনটি বলে কাজ থেকে বাঁচার ‘অস্ত্র’ খোঁজা।
সম্প্রতি ইন্টারনেটে এমন অভ্যাসের একটি নামকরণ হয়েছে— ‘ওয়েপনাইজড পুপিং’। সোজা বাংলায়, ‘মলত্যাগকে অস্ত্র বানানো’!
এখানে অস্ত্র আসলে মলত্যাগের জন্য চেয়ে নেওয়া ওই সময়ের ফাঁকটুকুই। যেখান দিয়ে পালানোর পথ নেই— এমন চক্রব্যূহ থেকেও ‘সুড়ুৎ’ করে গলে যাওয়া যায়। সহজেই এড়ানো যায় দায়িত্ববোধ, সাংসারিক কাজকর্মের ভার, কঠিন কোনও প্রশ্নবাণ বা কোণঠাসা হয়ে যাওয়া পরিস্থিতি।
সত্যি সত্যিই প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন যদি থেকে থাকে, তবে তা নিয়ে কারও সমস্যা থাকার কথা নয়। কিন্তু শৌচাগারের দরজা বন্ধ হতেই হাতে উঠে আসে মোবাইল ফোন। একটি রিল কখন পাঁচটা রিল হয়ে যায় আর কখন যে ১০ মিনিটের কাজটি ৪০ মিনিটে গিয়ে দাঁড়ায়, তার খেয়াল থাকে না। তবু সেইটুকু হয়তো মেনে নেওয়া যেত। মুশকিল হয় শৌচাগারের ছোটার সময়টি একটু বেশিই কাকতালীয় হয়ে গেলে।
হয়তো স্ত্রী বললেন, খাওয়ার প্লেট গুলো ধুয়ে দিতে। ঠিক তখনই তিনি বললেন, ‘এক মিনিট দাও, আমায় একটু টয়লেটে যেতে হবে...’।
‘মেয়েকে একটু খাইয়ে দেওয়া যাবে বা ছেলের স্কুলের টিফিনটা গুছিয়ে দেওয়া যাবে?’ উত্তর হল, ‘উঁহু, এখনই টয়লেটে যেতে হবে’।
পরিস্থিতি বুঝে শৌচাগারে যাওয়ার এই প্রয়োজন ব্যক্ত করাকেই বলা হচ্ছে ‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ বা মলত্যাগের অস্ত্র। কারণ, শৌচাগারের প্রয়োজন শুনলে কে-ই বা আপত্তি জানাবে!
‘ওয়েপনাইজড পুপিং’ কথাটি যিনি প্রথম ব্যবহার করেছেন, তিনি একজন লেখিকা তথা বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত পরামর্শদাতা অলিভিয়া হাওয়েল। তারপর থেকেই ওই শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় হয়েছে সমাজমাধ্যমে। অলিভিয়া অবশ্য মনে করেন, এই ‘অস্ত্র’ প্রয়োগ করা হয় মূলত মহিলাদের উপরেই। বিশেষ করে যারা সন্তান পালন করছেন, সেই সব মায়েরা এর শিকার।
হাওয়েল তাঁর লেখায় স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, ‘কোনও অজানা কারণে মায়েদের সদাপ্রস্তুত থাকতে হয়। সে তিনি খান, গোসল করুন, ঘুমোন বা কাজ করুন বা প্রকৃত প্রয়োজনে তাকে যেতে হোক শৌচাগারে, তাকে প্রয়োজন পড়লে ডাকা হবে এবং তাকে যেভাবে হোক হাজির হতেই হবে। যদিও দুর্ভাগ্যের বিষয়, অধিকাংশ সময়েই বাবাদের ক্ষেত্রে এটা বলা যায় না।’
