বয়স বাড়লেও ব্রণ পিছু ছাড়ছে না? জানুন কারণ ও প্রতিকার
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৈশোর পার করলেই ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে—এমনটাই তো ভেবেছিলেন অনেকে। কিন্তু বাস্তবে তা সবসময় হয় না। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রেই বিশ বা ত্রিশের কোঠায় পৌঁছানোর পরও ব্রণের সমস্যা লেগেই থাকে।
কখনো কদাচিৎ একটি জেদি ব্রণ, আবার কখনো গাল ও চোয়ালের চারপাশে চাকা চাকা, গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক সিস্টের মতো ব্রণ উঁকি দেয়। আয়নায় যদি এমন দৃশ্যই দেখতে পান, তবে আপনি হয়তো হরমোনজনিত বা ‘হরমোনাল অ্যাকনি’র সমস্যায় ভুগছেন।
হরমোনাল ব্রণ মূলত নারীদের বেশি আক্রান্ত করে এবং সাধারণ ব্রণের তুলনায় এর চিকিৎসা কিছুটা কঠিন ও বিরক্তিজনক হতে পারে। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই! ত্বককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সুস্থ রাখতে এই ধরনের ব্রণ নিরাময়ের কার্যকর উপায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘তারিন ডার্মাটোলজি’-র মেডিকেল ডিরেক্টর ও বোর্ড-সত্যায়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিবা তারিনের মতে, ‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সি নারীদের প্রায় অর্ধেকেরই ব্রণের সমস্যা রয়েছে এবং ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি নারীদের ২৫ শতাংশ এই সমস্যায় ভোগেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৈশোরকাল, মাসিক চক্র, গর্ভাবস্থা এবং ঋতুবন্ধের কারণে পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরে হরমোনের ওঠানামা বেশি হয়।’ হরমোনের এই পরিবর্তনগুলোর কারণেই মূলত ব্রণ বাড়ে।
চোয়ালে ব্রণ হওয়ার কারণ কী?
ডা. তারিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে চোয়ালের অংশে ব্রণ হতে পারে, যা মূলত অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে হয়ে থাকে।’
অ্যান্ড্রোজেন হরমোন ত্বকে তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ দেখা দেয়। এ ছাড়া হরমোনাল ব্রণের পেছনে জিনগত কারণও থাকতে পারে; অর্থাৎ অনেকের শরীরেই প্রাকৃতিকভাবে হরমোনের মাত্রা বেশি থাকার প্রবণতা থাকে।
যখন শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন শরীর অতিরিক্ত সিবাম (তৈলাক্ত পদার্থ) তৈরি করে। এর ফলে ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ত্বকের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। এই সমস্ত কিছুর সমন্বয়েই ত্বকে ব্রণ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
ডা. তারিন জানান, ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, মানসিক অবসাদ, নির্দিষ্ট কিছু খাবার, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং উদ্বেগও ব্রণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
হরমোনাল ব্রণ সাধারণত চোয়াল, থুতনি এবং নিচের গালের দিকে বেশি দেখা যায়। তবে গলা, কাঁধ, পিঠ ও বুকেও এগুলো হতে পারে। এই ব্রণগুলো ছোট গোটা, পুঁজভরা দানা, সিস্ট বা গুটির মতো হতে পারে এবং এর তীব্রতা হালকা থেকে মারাত্মক পর্যন্ত হতে পারে।
মুক্তির উপায় কী?
হরমোনাল ব্রণ দূর করার নানা উপায় রয়েছে। তবে আপনার ব্রণ যদি মুখে দেওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রেসক্রিপশনের লোশনে ভালো না হয়, তবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে অন্য কোনো বিকল্প বেছে নেওয়া উচিত।
ডা. তারিন জানান, ‘এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ‘স্পাইরোনোল্যাকটোন’-এর মতো অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ড্রাগ বা ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।’ এই ওষুধগুলো পুরুষ হরমোন অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে ত্বকে তেল উৎপাদন ও নিঃসরণ কমে যায়। মূলত উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত তরল জমানোর সমস্যায় এই ওষুধটি চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন।
নারীদের ব্রণ এবং অতিরিক্ত লোম বৃদ্ধির চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহার করা হয়। এটি কাজ করতে কয়েক মাস সময় নেয়, তবে হরমোনাল ব্রণ সারাতে বেশ কার্যকর। (অবশ্য আপনি যদি গর্ভবতী হন বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে অবশ্যই চিকিৎসককে তা জানাতে হবে।)
রেটিনয়েড
ভিটামিন এ জাতীয় এই উপাদানটি লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া রোধ করতে এবং ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
লাইফস্টাইলে কিছু ছোট পরিবর্তন
ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহারের পাশাপাশি ত্বকের বাড়তি যত্নের জন্য ডা. তারিন কিছু সাধারণ পরামর্শ দিয়েছেন—
একটি সহজ ও সাধারণ স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলুন।
পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
ডায়েট বা খাবারে চিনি ও দুধের পরিমাণ কমিয়ে দেখতে পারেন ব্রণের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে কিনা।
পুষ্টি ও স্বাদের ভারসাম্য রাখতে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ চর্বিযুক্ত মাছসহ ভূমধ্যসাগরীয় বা ‘মেডিটেরিয়ান’ ডায়েট অনুসরণের পরামর্শ দেন ডা. তারিন।

