সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে অবহেলা নয়, জানুন মস্তিষ্কে টিউমারের ৮ লক্ষণ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাজের ব্যস্ততা, ঘুমের ঘাটতি কিংবা দীর্ঘ সময় মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই এমন ব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে ওষুধ খান কিংবা বিশ্রাম নিয়ে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে মাথাব্যথার ধরন বদলে গেলে, ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকলে কিংবা এর সঙ্গে অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
যদিও অধিকাংশ মাথাব্যথার কারণ সাধারণ ও তুলনামূলক কম গুরুতর, কিছু ক্ষেত্রে এটি মস্তিষ্কের টিউমারসহ স্নায়ুতন্ত্রের জটিল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাব্যথার পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নেহা পণ্ডিতা জানিয়েছেন, মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, পানিশূন্যতা ও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ মাথাব্যথার পরিচিত কারণ। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, মাথাব্যথা আগের তুলনায় ঘন ঘন হওয়া, তীব্রতা বাড়া কিংবা নতুন ধরনের ব্যথা শুরু হওয়া সতর্কসংকেত হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। আবার ব্যথার কারণে ঘুম ভেঙে যেতে পারে কিংবা এর সঙ্গে বমি বমি ভাব ও বমি দেখা দিতে পারে।
ইয়াথার্থ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও গ্রুপ ডিরেক্টর ডা. কুনাল বাহরানিও মাথাব্যথার ধরন ও উপসর্গের পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, আগের মাথাব্যথার সঙ্গে নতুন ব্যথার পার্থক্য থাকলে, ব্যথা বারবার ফিরে এলে কিংবা স্বাভাবিক চিকিৎসায় আরাম না মিললে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কাশি, সামনের দিকে ঝোঁকা বা ব্যায়াম করার সময় মাথাব্যথা বেড়ে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মস্তিষ্কের কোন অংশে টিউমার হয়েছে এবং সেটি কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তার ওপর উপসর্গের ধরন নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
১. বারবার মাথাব্যথা হওয়া
মাথাব্যথা আগের চেয়ে ঘন ঘন হওয়া, ক্রমশ তীব্র হওয়া কিংবা ব্যথার ধরন বদলে যাওয়া সতর্কতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. সকালে মাথাব্যথা বেড়ে যাওয়া
ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা বেশি অনুভূত হওয়া কিংবা ব্যথার কারণে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন
হঠাৎ ঝাপসা দেখা, একটি বস্তুকে দুটি করে দেখা কিংবা দৃষ্টির স্বাভাবিক ক্ষমতায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যাকে কেবল চোখের ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।
৪. মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানো
বারবার মাথা ঘোরা, হাঁটার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ আক্রান্ত হলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৫. হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব
হাত বা পায়ে দুর্বলতা, অসাড়তা কিংবা অনুভূতির পরিবর্তন স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
৬. কথা বলা বা শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা
কথা বলতে সমস্যা হওয়া, পরিচিত শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা কিংবা স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ মস্তিষ্কের ভাষা নিয়ন্ত্রণকারী অংশের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
৭. স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও আচরণে পরিবর্তন
আগের তুলনায় স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা, অস্বাভাবিক বিরক্তি কিংবা মেজাজ ও ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এসব সমস্যাকে মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত ক্লান্তির ফল মনে করে অবহেলা করা হয়।
৮. হঠাৎ খিঁচুনি
আগে কখনো খিঁচুনি হয়নি, এমন কারও প্রথমবার খিঁচুনি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। মস্তিষ্কের বিভিন্ন সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। তাই প্রথমবার খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
মাথাব্যথা হলেই মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে, এমন ধারণা করার কারণ নেই। কারণ, এসব উপসর্গের পেছনে মাইগ্রেন, সংক্রমণ, চোখের সমস্যা কিংবা অন্যান্য স্নায়বিক ও শারীরিক অসুস্থতাও থাকতে পারে।
তবে মাথাব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে কিংবা এর ধরনে নতুন পরিবর্তন এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মাথাব্যথার সঙ্গে দৃষ্টির সমস্যা, বারবার বমি, দুর্বলতা বা ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলেও অবহেলা করা ঠিক নয়।
বিশেষ করে হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে, প্রথমবার খিঁচুনি দেখা দিলে, কথা জড়িয়ে গেলে কিংবা শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
মনে রাখবেন, দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই গুরুতর সমস্যার ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

